কিম্বার্লিতে সতীর্থদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে বসেছিলেন তখন ক্রিস মরিস। আগেরদিন পত্রিকায় দেখেছেন আইপিএলের নিলামে তার নাম উঠেছে; ভিত্তিমূল্য ২০ হাজার ডলার! নিলামে নাম ওঠা মানেই বিক্রি নয়, এটা জানতেন মরিস। তাই বন্ধুদের বলেছিলেন, ‘যদি ঘটনাচক্রে কেউ এই দামে আমাকে কিনে ফেলে আমি একটা গাড়ি কিনব। আমার খুব শখ।’
মরিস দুরুদুরু বুকে আইপ্যাডে তাই নিলামটা লক্ষ্য করছিলেন। এক সময় তার নাম উঠলো বিডে। ভয়ে ভয়ে ছিলেন মরিস। না, ভয় নেই। কেউ না কেউ তাকে কিনছে। প্রথমেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, চেন্নাই সুপার কিংস ও সানরাইস হায়দারাবাদ হাত তুললো। তার মানে আরেকটু বেশি দর উঠবে। দর উঠতে থাকলো। এক সময় মরিস হাঁপাতে শুরু করলেন। অসুস্থ কিনা শুনতে এসে সতীর্থরাও পেছনে দাঁড়িয়ে পড়লো। তারাও হতভম্ব হয়ে দেখলো রশি টানাটানি চলছে আর চড়চড় করে বাড়ছে মরিসের দর।
২০ হাজার থেকে ৯৫ হাজার, এক লাখ, দুই লাখ, চার লাখ ডলার পর্যন্ত দর উঠে গেল। মরিস আর সহ্য করতে পারছিলেন না। হাত থেকে আইপ্যাডটা পড়েই যেত, কোচ গর্ডন পারসন ধরে না ফেললে। এই সময় মরিস যেন আর কিছু বুঝতে পারছিলেন না। এক সময় শুধু শুনলেন, কে যেন চিত্কার করে বললো, ‘আমাদের মরিসের দাম ৬ লাখ ২৫ হাজার ডলার’। মরিস আস্তে আস্তে বললেন, ‘এত টাকা! এত টাকা তো আমি কখনো এক জায়গাতে দেখিইনি। হাতে নেব কী করে!’
শুনলে উপন্যাসের দৃশ্য মনে হয়। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার একটিমাত্র টি-টোয়েন্টি খেলা এই অলরাউন্ডারের জীবনে ‘উপন্যাস’ই ঘটিয়ে দিয়েছে পরশু হয়ে যাওয়া ২০১৩ সালের আইপিএল নিলাম। একেবারে শূন্য থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার রাতারাতি এখন মিলিওনিয়ার হয়ে গেছেন!
তবে মরিস নন, আসলে এবারের আইপিএল নিলামে সবচেয়ে বড় চমকটা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকওয়েল। এক তরুণকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কিনে নিয়েছে ১০ লাখ মার্কিন ডলারে।
আইপিএলের বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ইতিমধ্যে দলগুলোর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকায় এখন আর তারকা খেলোয়াড়দের নিলামে উঠতে হচ্ছে না। এবার আসরে বড় তারকাদের মধ্যে নিলামে ছিলেন রিকি পন্টিং, হার্শেল হিবসের নাম। গিবসকে কেউ কেনেনি। আর পন্টিংকে পুনে ওয়ারিয়র্স ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে কিনে নিয়েছে। বাংলাদেশের নিলামে কেউ ছিলেন না। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কলকাতার চুক্তি এখনও চলমান। আর তামিমের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করে নিয়েছে পুনে।
এছাড়া বাকিটা ছিল নতুনদের এরকম চমকে ভরপুর গল্প। সেই গল্পের শীর্ষে আছেন ১০ লাখ ডলার নিয়ে ম্যাক্সওয়েল। চমক নিউজিল্যান্ডের তরুণ তারকা কেন রিচার্ডসনও কম পাননি। তিনি বিক্রি হয়েছেন ৭ লাখ ডলারে। শ্রীলঙ্কার এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলা স্পিনার সচিত্রা সেনানায়েকেকে ৬ লাখ ২৫ হাজার ডলারে কিনেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ওদিকে তারই দেশের আন্তর্জাতিক খেলা রঙ্গনা হেরাথকে আবার কেউ কেনেনি। গতবার বিক্রি না হওয়া অজন্থা মেন্ডিজ এবার ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছেন পুনে ওয়ারিয়র্স দলে। ড্যারেন ব্র্যাভো, উপল থারাঙ্গা, মার্টিন গাপটিল, রবি বোপারা, ভারনন ফিল্যান্ডার, সুলেমান বেন, কেভিন ও’ব্রায়েনরাও ক্রেতা পাননি।
তবে নিলাম এদের গল্প নিয়ে নয়, এবার নিলাম ক্রিস মরিসদোর গল্প নিয়ে। আইপিএল যাদের রাতারাতি কোটিপতি বানিয়ে দিল। এই কোটিপতি হওয়ার অর্থ কী? ক্রিস মরিস বলছিলেন, ‘এখনও বুঝতে পারছি না। শুধু আমার এক সতীর্থ প্রশ্ন করেছিল, তুমি কী এখন থেকে বড়লোকদের মতো আচরণ করবে! আমি সেরকম বড়লোক হতে চাই না।’
