হাইকোর্টে মির্জা ফখরুলকে শেষ মামলায় জামিন

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৮
অবরোধে গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কলাবাগান থানায় দায়েরকৃত মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গতকাল সোমবার ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। এ নিয়ে গাড়ি ভাংচুরের ছয়টি মামলায়ই জামিন পেলেন মির্জা ফখরুল। তার বিরুদ্ধে আর কোন মামলা না থাকায় কারাগার থেকে মুক্তি পেতে আইনগত আর কোন বাধা নেই। গত ৯ ডিসেম্বর বিএনপিসহ ১৮ দলের ডাকা রাজপথ অবরোধের কর্মসূচি চলাকালে গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৩৮ টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানার দুটি মামলায় গত ১০ ডিসেম্বর ফখরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ফখরুলকে পরদিন নতুন করে মতিঝিল ও সূত্রাপুর থানার দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এভাবে দুটি করে মামলায় জামিনের পর তিন দফা ছয়টি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। যখন তিনি জামিন পান পরেরদিনই পুলিশ অন্য মামলাগুলোতে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে। এভাবে একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ফখরুল। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত ২৮ জানুয়ারি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ব্যতীত নতুন মামলায় ফখরুলকে গ্রেফতার না করতে সরকারকে নির্দেশ দেয়। এদিকে ৩১ জানুয়ারি পল্টন থানার মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ফখরুলকে জামিন দেয়। কিন্তু পুলিশের কাজে বাধাদান, হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে কলাবাগান থানার মামলায় তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয় ওই আদালত। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় যে সবগুলো মামলা একই উপাদানের হলেও নিম্ন আদালত একটি জামিন দেয় এবং অন্যটি নাকচ করে দেয়। ছয়টি মামলার ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনা ঘটে। গতকাল শুনানিতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একজন জাতীয় নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক মামলা সভ্যতা বিরোধী। আন্দোলনকে দমানোর জন্য সরকার প্রতিহিংসার এ পথ বেছে নিয়েছে। উচ্চ আদালতে জামিনের আদেশকে অকার্যকর করতে পুলিশকে দিয়ে নতুন নতুন মামলা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মমতাজউদ্দিন ফকির জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানিকালে আদালতে মির্জা ফখরুলের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক, এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি, ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন আহমেদ অসীম, ব্যারিস্টার রাগীর রউফ চৌধুরী, এডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, এডভোকেট সগীর হোসেন লিওন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।