সোমবার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় বিএনপির সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মুক্তি ও দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয় কমিটি এই হরতাল আহবান করে। বিভিন্ন স্থান থেকে হরতালের খবর পাঠিয়েছেন আমাদের রাজশাহী অফিস ও জেলা প্রতিনিধিরা।
রাজশাহী অফিস : সকাল সোয়া ৭টার দিকে নগরীর সাহেব বাজার এলাকায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে মহানগর বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করে। অন্যদিকে রাজশাহী জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে নগরীর সাহেব বাজার এলাকায় জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করে। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন্ন এলাকায় জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীরা হরতালের সমর্থনে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে। হরতালের কারণে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকে। বন্ধ থাকে নগরীর বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান-পাট। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। রাজশাহীর নয়টি উপজেলার সর্বত্র শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের খবর পাওয়া গেছে।
রংপুর প্রতিনিধি :গতকাল সোমবার রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। সকালে হরতাল সমর্থনে জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে হরতাল চলাকালে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও নগরীতে ভারী কোন যানবাহনসহ দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। স্কুল-কলেজ খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকল ধরনের দোকান-পাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।
বগুড়া প্রতিনিধি :বগুড়ার আদালত চত্বরে পর পর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এছাড়াও সান্তাহারে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও হরতালকারীরা বিভিন্ন সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ পরিবহন ভাংচুর করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের দিনভর দলীয় কার্যালয়ে আসতে দেয়নি পুলিশ। তবে বিকালে তারা পুলিশ বেষ্টনির মধ্যে থেকে সমাবেশ করেছে। শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথাসহ আশপাশের এলাকা হরতাল চলাকালে ছিল আইন-শৃংখলা বাহিনীর দখলে। হরতালকারীরা কোন মিছিল নিয়ে এসব এলাকায় প্রবেশ করতে পারেনি ।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি :জয়পুরহাটে ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাংচুর এবং বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সাংবাদিকসহ ৫ জন আহত হয়েছে। হরতাল চলাকালীন সোমবার সকাল ৮টার সময় জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মোজাহার আলী প্রধানের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। একই সময়ে সাবেক শহর বিএনপির সভাপতি ফয়সাল আলীম গ্রুপের একটি মিছিল বের হয়। দুটি মিছিল শহরের নিউ মার্কেটের সামনে এলে দু’গ্রুপের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় পিকেটারের নিক্ষিপ্ত লাঠির আঘাতে সাংবাদিক আলমগীর চৌধুরী আহত হন। বিক্ষুদ্ধ পিকেটাররা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পিকআপ ভাংচুর করে।
