দৈনিক ইত্তেফাকে রবিবার প্রকাশিত ‘জলবায়ু তহবিলের অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন: দাতাদের নজরদারি’ শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। তারা এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে দাবি জানিয়েছে। সোমবার পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, জলবায়ু তহবিল তথা বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থ যেখানে দাতাদের নজরদারির প্রশ্নই ওঠে না। বিশ্বব্যাংকসহ দাতা দেশ ও সংস্থাসমূহ সরকারের এই অর্থ বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশংসা করেছে। জলবায়ু তহবিলের অর্থ বরাদ্দ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও প্রশ্নাতীত। এ বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিবেদনের শেষভাগে উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদক প্রথমদিকে নিজেই বিষয়টি গুলিয়ে ফেলেছেন।
প্রতিবেদনে দাতাদের আস্থাহীনতার কথা বলা হয়েছে। বস্তুত প্রতিবেদক দাতা সংস্থার কোনো প্রতিনিধির সাথেই আলাপ করেননি। অতি সমপ্রতি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনা, বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপ এবং তহবিল পরিচালনা প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াকে সফল দেশ হিসেবে অভিহিত করে লিফলেট বের করে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের ১৯৪টি দেশের প্রতিনিধির কাছে বিতরণ করেছে। এছাড়া গত ০৮ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে বিশ্বব্যাংক এক বিবৃতির মাধ্যমে বলেছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। তবে এই ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় দেশ দুটি ভালভাবেই অগ্রসর হচ্ছে’।
উন্নত দেশসমূহ এ পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশসমূকে ৩০০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রায় ২০ কোটি ডলার পেয়েছে যা বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনে এক স্থানে বলা হয়েছে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের ২১ শতাংশ চট্টগ্রাম অঞ্চলে। মূলত বাংলাদেশের ৭০০ কিলোমিটার বিস্তৃত উপকূলীয় এলাকার প্রায় অর্ধেকই চট্টগ্রাম বিভাগে। সে হিসেবে অঞ্চলভিত্তিক প্রকল্প বরাদ্দ করা না হলেও প্রদত্ত পরিসংখ্যান শুধু ধান বানতে শিবের গীত গাওয়ার মতো। মূলত আইলা ও সিডর বিধ্বস্ত খুলনা অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের আরো কর্মসূচি এবং প্রকল্প থাকার কারণে সেখানে হয়ত কোন প্রকল্প বাদ পড়ে থাকতে পারে। সামগ্রিকভাবে ঐ এলাকার মানুষের জন্য সরকার এ পর্যন্ত যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তা পর্যাপ্ত। একই এলাকার একই কাজে দুটি মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ব্যয় করা কোনভাবেই যুক্তিসিদ্ধ নয়।
প্রতিবেদনে একজন এনজিও কর্মীর বক্তব্য দিয়ে প্রতিবেদনটি বিশ্বাসযোগ্য করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বস্তুতঃ ঐ এনজিও কর্মীর ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিশ্বব্যাপী নিজের এনজিওর জন্য ফান্ড পেতে ব্যর্থ হয়ে এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজকে হেয় প্রতীয়মান করার জন্যই এরকমটি করে থাকেন।
এ পর্যন্ত জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকে বরাদ্দকৃত সকল প্রকল্পই অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য তহবিল বরাদ্দ পেয়েছে। যে সকল এনজিও শুধু মিটিং সিটিং সভা সেমিনার এবং তথাকথিত চর্বিত চর্বণ করার জন্য প্রকল্প পেশ করেছে সে সমস্ত প্রকল্পে বরাদ্দ প্রদান করা হয়নি। উল্লেখিত এনজিওজীবীর এ ধরনের কোনো প্রকল্প জলবায়ু তহবিল বরাদ্দ থেকে বাদ পড়লেও পড়তে পারে যার কারণে তার ভেতরে এই ক্ষোভ ও দুঃখ কাজ করতে পারে।
বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্টি বোর্ড অত্যন্ত শক্তিশালী। সরকারের সিনিয়র ১১জন মন্ত্রী, কয়েকজন সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর, কয়েকজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এই বোর্ডের সদস্য। এখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রতিটি প্রকল্প বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে একক কোন মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা ব্যক্তির কর্তৃত্ব নেই।
