যা পাই আমি চাঁপাইতে

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৭
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গেলাম, মানে কিনা চাঁপাইতে মামার বাড়ির আদর পেতে খুশির গাঙে ঝাঁপাইতে। বুঝলে কিনা চাঁপাই নবাবগঞ্জে থাকে মামারা এক দো নেহি তারচে’ বেশি, তিনঠো মামা হামারা। তিনটে মামা তিনটে মামি কাজিন আছে আটখানা আমায় পেয়ে ওরা সবাই খুশিতে ভাই আটখানা। কাজিনরা সব চালাক চতুর আমিই বোকার বোকারে তাই খেতে হয় চিমটি গুঁতো সুড়সুড়ি রামটোকা রে! আটটা কাজিন আট রকমের স্বভাবে আর চরিত্রে ওদের মতো দুষ্টু পাজি একটাও নেই ধরিত্রে! তিনটে মামা তিন রকমের, সবচে’ ছোট মামাটা আমার জন্যে আনবে কিনে ইগলু, মিমি, জামাটা। মেজো মামা হিরোর মতোন, সদাই পরিপাটি সে এই মামাটার আদর মানেই মারবে মাথায় চাঁটি সে! একটা দুটো চাঁটি খেলেও লস তাতে নেই লাভ আছে এই মামাটার সঙ্গে আমার সত্যি দারুণ ভাব আছে। এই মামা নেয় সিনেমাতে! এনিমেশন মুভি রে! চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমি ভালোই থাকি খুবই রে। সবার বড় যেই মামাটা সেইটা ভীষণ জলি তো তাই আমাকে ছোট্ট বেলায় কুমড়োপটাশ বলিতো। এখন আমায় ওসব বলে আগের মতো চটায় না মন খারাপের কষ্ট পাওয়ার কাণ্ড কোনো ঘটায় না। একশো টাকার চকচকে নোট এই মামা দেয় আহা রে মামার বাড়ি ভালোই থাকি নানান খুশির বাহারে। চাঁপাই গেলে যা পাই খেতে তাতো নিছক গল্প না খাবার নিয়ে সব মামিরই নানান পরিকল্পনা। একটা মামি পোলাও রাঁধেন অন্য মামি আয়েসে- ব্যস্ত থাকেন দুধ-কদু আর ফিন্নি পুডিং পায়েসে। একটা মামির নজর থাকে রাঁধতে মাছের মুড়োটা আর আমাকে ঠেঁসে ধরেন-‘খাইতে হবে পুরোটা’! পেট তো আমার এত্তোটুকুন, খাবার বেশি আঁঁটে না পেট হয়ে যায় ফুটুম-ফাটুম, ফাটতে ফাটতে ফাটে না! কাজিনগুলোই একটু ভোগায় আর বাকি সব ঠিক আছে মামার বাড়ি ভালো লাগার আরো অনেক দিক আছে। সে সব গল্প পরে হবে, আজ এটুকুই, যাইরে যাই মেজো মামা ডাকছে আমায় মামার সাথে বাইরে যাই। বাইরে মানে সিনেমাতে, পটেটো চিপস ফান্টাতে মামা বাড়ির বোনাস মজা আসবে এবার প্রাণটাতে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাদের আমার মতো মামা নাই তাদের ভাগ্যে আমার মতোন সিনেমা-চিপস-জামা নাই! কেমন করে বুঝবি তোরা মামা-মামির আদরটা! হিংসাতে পেট যাচ্ছে ফেটে? বললি আমায় বাঁদরটা...!!