মানবসভ্যতা বিকাশের শুরু থেকে বই মানবজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর বইয়ের জগতের ধারণা পাল্টে যায়। এরপর বইয়ের প্রচার ও প্রসার বাড়তে থাকে। বই আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বই হলো প্রকৃত এবং প্রিয় বন্ধু। বই জ্ঞানের ভাণ্ডার। যেখান থেকে আমরা প্রতিনিয়ত জ্ঞান আহরণ করি। বই সম্পর্কিত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিক, দার্শনিকরা ভিন্ন ভিন্ন স্মরণীয় বাণী দিয়েছেন। সে সব বাণীর উদ্ধৃতি দেয়া হলো।
মহামানবের মাধ্যমে আল্লাহর প্রথম বাণী ‘পড়’ —আল- কোরআন
বিদ্যুেক মানুষ লোহার তার দিয়া বাঁধিয়াছে, কিন্তু কে জানিত মানুষ শব্দকে নিঃশব্দের মধ্যে বাঁধিতে পারিবে? কে জানিত সঙ্গীতকে, হূদয়ের আশাকে, জাগ্রত আত্মার আনন্দ ধ্বনিকে, আকাশের দৈববাণীকে সে কাগজে মুড়িয়া রাখিবে? কে জানিত মানুষ অতীতকে বর্তমানে বন্দী করিবে, অতলস্পর্শ কাল সমুদ্রের উপর একখানি বই দিয়া সাঁকো বাঁধিয়া দিবে?
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বই পড়াকে যথার্থ হিসাবে যে সঙ্গী করে নিতে পারে, তার জীবনের দুঃখ-কষ্টের বোঝা অনেক কমে যায়। —শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কিছু শিক্ষিত ব্যক্তি আছে যারা নিজেরা বই পড়ে না, অন্যকেও বই পড়তে নিরুত্সাহিত করে, এরা নিঃসন্দেহে মূর্খ না হলেও শিক্ষার কলঙ্ক।
—আবুল ফজল
বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক। সৃষ্টির আদিকাল হইতে মানুষ আসিয়াছেন, আর চলিয়া গিয়াছেন, খ্যাতি-মান-অর্থ-শক্তি কিছুই কেহ রাখিয়া যাইতে পারেন নাই। কিন্তু বইয়ের পাতা ভরিয়া তাহারা তাহাদের তপস্যা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, তাহাদের নৈরাশ্য, কি হইতে চাহিয়া কি তাহারা হইতে পারেন নাই, সবকিছু তাহারা লিখিয়া গিয়াছেন।
—জসীমউদ্দীন
সত্যিকার বৈদগ্ধ ও চিত্প্রকর্ষের অধিকারী হতে হলে লাইব্রেরির সঙ্গে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি করা অবশ্য প্রয়োজন। —মোতাহের হোসেন চৌধুরী
যে জাতি মনে বড় নয় সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়। —প্রমথ চৌধুরী
গ্রন্থনা: রনি অধিকারী
