লন্ডনে কারজাই-জারদারি বৈঠক

আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ছয় মাসের মধ্যে চুক্তি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:২৩
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দুই প্রেসিডেন্ট আগামী ছয় মাসের মধ্যে এক শান্তি চুক্তির ঘোষণা করেছেন। গত সোমবার লন্ডনে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের এক ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় এ ঘোষণা দেয়া হয়। এ আলোচনার মাস ছয়েকের মধ্যে এক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানান দেশ দুইটির প্রেসিডেন্ট। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে উত্সাহ দিতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কেননা ২০১৪ সালে ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেলে গোটা অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ বেধে যাবার আশঙ্কা করছেন অনেকে।—খবর ডয়চে ভেলে ও এএফপি। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে কাবুল ও সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে এমন একটি ত্রিপাক্ষিক আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। এদিকে তালেবানকে আলোচনায় অংশ নিতে উত্সাহ দিতে কাতারের রাজধানী দোহায় একটি দপ্তর খোলা হবে। দলমত নির্বিশেষে আফগানিস্তানে যে শান্তি পরিষদ গঠন করা হয়েছে, সেই পরিষদই তালেবানের সঙ্গে সংলাপ চালাতে পারবে। এছাড়া ব্রিটেনও তালেবানদের আলোচনা টেবিলে আনতে চায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, আফগানিস্তানে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার এটাই সঠিক সময়। অন্যদিকে সমপ্রতি আফগান সরকার বেশ কয়েকজন তালেবান বন্দিকে মুক্তি দিয়ে সংলাপে সদিচ্ছা দেখানোর চেষ্টা করেছে। এক সামপ্রতিক সাক্ষাত্কারে কারজাই বলেছেন, আফগানিস্তানে শান্তির পথে তালেবান মূল অন্তরায় নয়, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের ফলেই সমস্যা হচ্ছে। এ আলোচনায় দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা। পাকিস্তানের সক্রিয় আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া আফগানিস্তানে স্থায়ী শান্তি কার্যত অসম্ভব, সে বিষয়ে কারো মনে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কারজাই ও ওবামা প্রশাসন বার বার দেশটির বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার অভিযোগ এনেছেন।