জনবল সংকটে অচলাবস্থা বিরাজ করছে চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির। রসায়নবিদ, জীবাণুবিদ ও টেকনিশিয়ানদের ২২টি পদই শূন্য। মান যাচাইয়ের জন্য ল্যাবরেটরিতে ওষুধের নমুনার স্তূপ পড়ে রয়েছে। যথাসময়ে মেরামত কাজ না করায় মেশিনগুলোতে ধারণক্ষমতার ৪০ শতাংশ ব্যবহার করা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব পদের প্রচুর দক্ষ জনবল ঢাকার ড্রাগ ল্যাবরেটরিতে রয়েছে। কিন্তু তারা কেউ ঢাকার বাইরে পোস্টিং নিতে চান না।
আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে গত কয়েক বছর যাবত্ এই অচলাবস্থা বিরাজ করছে। দেশে উত্পাদিত ওষুধের মান যাচাইয়ের জন্য চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দু’টি ড্রাগ ল্যাবরেটরি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দফায়-দফায় চিঠি দিয়ে অবহিত করা হলেও জনবলের সংকট নিরসনের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।
ল্যাবরেটরির মূলচালিকা শক্তি হচ্ছে রসায়নবিদ, জীবাণুবিদ ও টেকনিশিয়ান। এসব পদের মধ্যে রসায়ন ও জীবাণুবিদের ১১টি পদের মধ্যে বর্তমানে সহকারী রসায়নবিদ হিসাবে একজন কর্মরত রয়েছে। একজন জীবাণুবিদ ছিল। তাকে কয়েক মাস আগে ঢাকায় বদলি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এনালিস্টের ৫টি পদই খালি। টেকনিক্যাল এসিস্টেন্টের ৩টি, ল্যাবরেটরি সহকারীর ৩টি পদও খালি রয়েছে। ল্যাবরেটরির ৩৭টি পদের মধ্যে পিয়ন ও দারোয়ানসহ ১৪ জন জনবল কর্মরত রয়েছে।
সূত্র জানায়, এই ল্যাবরেটরিতে এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হারবাল ওষুধের মান যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত মেশিন রয়েছে। মেশিনগুলো দুই বছর পরপর মেরামত করতে হয়। কিন্তু ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মেশিনগুলোতে কোন সংস্কার কাজ হয়নি। এতে মেশিনগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পাচ্ছে ক্রমশ। মেশিন মেরামতের জন্য কোন বরাদ্দ নেই। আবার মেরামত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন নিতে হয়। এসব কাজে প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রিতায় অনুমোদন ঝুলে থাকে অধিদপ্তরে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির পরিচালক মুশফিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, শীঘ্রই কিছু জনবল পদায়নের প্রক্রিয়া চলছে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে প্রায় ২০৭টি এলোপ্যাথিক ওষুধ কোম্পানি রয়েছে। এর বাইরে হোমিপ্যাথিক, আয়ুর্বেদীয়, হারবাল ও ইউনানীর কয়েকশ’ কোম্পানির ওষুধ বাজারজাত হয়ে থাকে। এলোপ্যাথিক ওষুধ কোম্পানিগুলোকে তাদের ফ্যাক্টরিতে তৈরি ওষুধের প্রথম নমুনাটি ড্রাগ ল্যাবরেটরিতে জমা দিতে হয়। পরবর্তীতে বাজার থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে মান যাচাই করা হয়। বাজার থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহের কাজ করেন ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক নামের সংস্থা। ড্রাগ সুপার ও ড্রাগ পরিদর্শক নমুনা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সূত্র জানায়, এই কাজ করার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ জন লোক রয়েছে। বাজার থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহের জন্য এসব পদে প্রয়োজনীয় জনবল নেই। নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে জনবল বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমানে এই পদে একটি জেলায় একজন লোকও নেই। ল্যাবরেটরির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মাসে ৩০ থেকে ৪০টি ওষুধের বেশি মান পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।
সিএমপিতে ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বে রদবদল, ৪ পদোন্নতি
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ১০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বে রদবদল করা হয়েছে। এছাড়া চারজন সহকারী কমিশনারকে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। সোমবার সিএমপির কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এ আদেশে স্বাক্ষর করেন এবং পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন। সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ডিবি) মো. তারেক আহম্মেদ ইত্তেফাককে জানান, সহকারী কমিশনার পদ থেকে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মিজানুর রহমান, আব্দুল মান্নান, মনজুর মোরশেদ ও আরেফিন জুয়েল। এছাড়া নতুন আদেশে দুইজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও আটজন সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব রদবদল করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার একেএম শহিদুর রহমানকে প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বনজ কুমার মজুমদারকে ক্রাইম ও অপারেশনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
দায়িত্ব রদবদল হওয়া আটজন সহকারী কমিশনার হলেন:শাহ মো. আবদুর রউফ (এসি পাঁচলাইশ), মির্জা সায়েম মাহমুদ (এসি কোতয়ালী), মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী (এসি ডিবি-উত্তর), হাসানুজ্জামান মোল্লা (এসি ডবলমুরিং), নিয়াজ মোহাম্মদ (এসি বন্দর), তানজিলা সিদ্দিকা (এসি ফোর্স), নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী (এসি ট্রাফিক-বন্দর) এবং এসএম নূরুল হুদা (এসি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার)। এছাড়া বর্তমানে সহকারী কমিশনার (সদর) পদে দায়িত্ব পালনকারী মাহমুদা বেগমকে এসি, স্টাফ অফিসার পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের আদেশ দেয়া হয়েছে।
