ডলার বিক্রি করেও দাম ঠিক রাখতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০০

ডলার বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। ডলারের দাম বাড়ায় কমে যাচ্ছে টাকার মান। বাজার ঠিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার ছাড়ছে প্রচুর। তবে তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। আমদানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আশানুরূপ রেমিট্যান্স না আসায় বাজারে ডলারের সংকট চলছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি করায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে।

জানা গেছে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় মূল্য এখন ৮৩ টাকা ৯০ পয়সা। এক বছর আগে ছিল ৮১ টাকা ২৯ পয়সা। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে দর বেড়েছে দুই টাকা ৬১ পয়সা বা তিন দশমিক ২১ শতাংশ। বাজারে ডলার সংকট মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২০ দিনে তিন দফায় টাকার বিনিময় মূল্য বাড়িয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রচুর পরিমাণে ডলারও ছাড়তে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২০১৭ সালের ২০ নভেম্বরে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় মূল্য ছিল ৮১ টাকা ২৯ পয়সা। সর্বশেষ গত জুন মাসে তা ছিল ৮৩ টাকা ৭২ পয়সা। গত ৩১ অক্টোবর আন্তঃব্যাংকে এ হার ছিল ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা। এর পর থেকেই বিশ দিনে তিন দফায় দর বাড়ে টাকার।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাজারের চাহিদার উপর নির্ভরশীল হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। অলিখিতভাবে দর নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ডলারের চাহিদার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এ দর পুরো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য ব্যাংকগুলোর চাহিদার আলোকে গত ৭, ১৪ ও ২০ নভেম্বরে ডলারের বিপরীতে টাকার দর কমেছে তিন দফায়। সর্বশেষ ২০ নভেম্বরে ব্যাংকগুলো ৪৩ টাকা ৯০ পয়সায় ডলার বিনিময় করেছে।

ডলারের চাহিদা মিটিয়ে দর নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড়তে শুরু করেছে। সাত দিনের ব্যবধানে ৬৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করেছে। যা স্থানীয় মুদ্রায় পাঁচ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। এছাড়া বিপিসির দায় মেটাতে গিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে একশত কোটির বেশি ডলার কমেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত ৭ নভেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ২১৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ১০১ কোটি ডলার। সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বরে তা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ১০৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।

আলোচিত সময়ে বিপিসির দায় মিটিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রা থেকেই এই দায় মেটানো হয়। এছাড়া বাজারে ডলারের চাহিদা বাজায় রাখতে গিয়ে ৬৩৭ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করতে হয়েছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে। এজন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পূর্বের চেয়ে কিছুটা কমে গিয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, রপ্তানি, রেমিট্যান্স আয়ের সঙ্গে আমদানি ব্যয়ের একটা অসামঞ্জস্য হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। এর ফলে দাম বেড়ে যাচ্ছে।

এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খান বলেন, ব্যাংকগুলোর প্রচুর পরিমাণে এলসি (ঋণপত্র) খুলে রেখেছে। সেগুলোর সেটেলমেন্ট করার জন্য প্রচুর ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডলারের দাম বৃদ্ধিতে রপ্তানিকারকরা বাড়তি অর্থ পাচ্ছেন। এতে তারা লাভবান হচ্ছেন। তবে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ, তাদেরকে পণ্য বা যন্ত্রপাতির আমদানিতে বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এদিকে শুধু টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ছে এমন নয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলার চড়া হচ্ছে।