‘হ্যাপি বার্থডে ফেসবুক’ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিশ্বজোড়া একশ কোটি বন্ধু জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাল ফেসবুককে। মার্ক জুকারবার্গের হাত ধরে ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল পথচলা। সঙ্গে ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী এডওয়ার্ডো, ডাস্টিন ও ক্রিস। দেখতে দেখতে ন’টা বছর পার হয়ে গেল ফেসবুকের। আর এ পথচলায় সাথে ছিলো ফেসবুক বন্ধুরা। সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুক ১০ বছরে পা দিল। ছবি শেয়ার করা, বন্ধুত্ব করাসহ নানা ধরনের কাজে বর্তমানে জনপ্রিয় ফেসবুক। সময়ের সাথে সাথে এটি পরিণত হয়েছে বিকল্প এক গণমাধ্যমে; ফেসবুক পরিণত হয়েছে মুক্ত মতের প্রকাশের অন্যতম মাধ্যমে। যে কারণে সামাজিক পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই ফেসবুক। মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে ওঠা এই সাইটটির শুরু এবং দীর্ঘ নয় বছর পথচলার অর্জনগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক কিছু কথা।
পথচলার শুরু
২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ে ‘ফেসমাস্ক’ নামে প্রথম একটি সাইট চালু করেন মার্ক জাকারবার্গ। জাকারবার্গের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত করে এক মেলবন্ধন সৃষ্টি করা। নিজেদের ভাবনা আর ছবি যাতে সবাই ভাগাভাগি করতে পারে, সে জন্যই এ সাইটের শুরুটা করেন তিনি। পরবর্তীতে বন্ধু এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিটস আর ক্রিস হিউজেসের সহযোগিতায় ২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ফেসবুক। শুরুতে এর নাম ‘দ্য ফেসবুক’ রাখা হলেও ২০০৫ সালে নাম বদলে ‘দ্য’ শব্দটি বাদ দিয়ে নাম রাখা হয় ‘ফেসবুক’। বিশ্বব্যাপী প্রথম সামাজিক যোগাযোগের সাইট হিসেবে জনপ্রিয় এই সাইটটি ব্যবহারকারীর সংখ্যায় ইতোমধ্যেই পেরিয়ে গেছে ১০০ কোটি।
নয় বছর পথচলা:ফেসবুকের অর্জন
বর্তমানে কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল, ট্যাবলেটেও বেড়েই চলছে ফেসবুকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা। আর আয়ের বিষয়টিও তাই ভিন্ন ভিন্নভাবে আসছে। ফেসবুককে আরও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে দক্ষ বাহিনী, যার নেতৃত্বে আছেন তরুণ বিলিয়নিয়ার মার্ক জাকারবার্গ নিজেই। ফেসবুকের নয় বছরের পথচলায় নানা অর্জনের কথা তুলে ধরা হলো এই লেখায়।
ফেসবুক ২০০৪
- ফেসবুকের পথচলা শুরু
- ‘দ্য ফেসবুকে’র বিস্তৃতি লাভ
- প্রোফাইল ফিচার হিসেবে ওয়াল যুক্ত হয়
- এক লাখ সক্রিয় ব্যবহারকারী লাভ
ফেসবুক ২০০৫
- ফেসবুক প্রায় ৮০০ কলেজ নেটওয়ার্ক সমর্থন করতে সমর্থ হয়
- ‘দ্য ফেসবুক’ থেকে ‘ফেসবুক’র আবির্ভাব
- ৫.৫ মিলিয়ন সক্রিয় ব্যবহারকারী
ফেসবুক ২০০৬
- ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার উপার্জন
- মোবাইল ফিচার শুরু
- ব্যানার ও বিজ্ঞাপনে যাত্রা শুরু
- ফেসবুকের প্রায় ২০টি পার্টনার সাইট যুক্ত
ফেসবুক ২০০৭
- ২ মিলিয়ন কানাডিয়ান এবং ১ মিলিয়ন ব্রিটিশ ব্যবহারকারী
- আন্তর্জাতিক বাজার বিস্তারের জন্য চুক্তি
- ৫০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী
ফেসবুক ২০০৮
- স্প্যানিশ এবং ফ্রেঞ্চ ভাষার ব্যবহার শুরু
- ফেসবুক প্রাইভেসির আপডেট
- ফেসবুক ট্রান্সলেশন অ্যাপস চালু
- ১০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর ল্যান্ডমার্ক অর্জন
ফেসবুক ২০০৯
- ফেসবুক লাইক ফিচার উন্মুক্ত
- উইজারনেম ফিচার যুক্ত করা হয়
- ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫০+
ফেসবুক ২০১০
- প্রশ্নের বেটা সংস্করণ যুক্ত
- ফেসবুক প্লাস যোগ করা হয়
ফেসবুক ২০১১
- ব্যবহারকারীর সংখ্যা পেরিয়ে যায় ৭৫০ মিলিয়ন
- টাইমলাইনের ডেভেলপমেন্ট শুরু
ফেসবুক ২০১২
- টাইমলাইনের ব্যবহার শুরু
- কভারসহ ফেসবুকের হোম ইন্টারফেসে নানা পরিবর্তন
- অন্যতম বৃহত্ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফেসবুকের শেয়ার বাজারে প্রবেশ
- বিশ্বের প্রথম সাইট হিসেবে ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর ল্যান্ডমার্ক অর্জন
রাইসা সানজা স্বচ্ছ
