মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবনের রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সরকার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, এ রায়ে আমরা ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। খোদ এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, এ রায় আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু বলেন, প্রত্যাশা করেছিলাম কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড হবে। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া রয়েছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর তারা এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, প্রত্যাশা করেছিলাম পাঁচ নম্বর অভিযোগে (মিরপুরের আলোকদি গ্রামের ৩৪৪ জনকে হত্যা) ও ছয় নম্বর (মিরপুরে হযরত আলী, তার স্ত্রী আমিনা এবং দুই মেয়ে খাদিজা ও তাহমিনা, দুই বছরের ছেলে বাবুকে হত্যা) অভিযোগে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড হবে। কিন্তু রায়ের মাধ্যমে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আমাদের পরবর্তী করণীয় পরে বসে ঠিক করা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু বলেন, প্রত্যাশা করেছিলাম কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড হবে। তবে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে পাঁচ ও ছয় নম্বর অভিযোগ খুবই গুরুতর। সেটি প্রমাণিত হওয়ার পর কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডই ছিল আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ায় আমরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
রায়ে চরম হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম। গতকাল পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম হতাশা ও চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। অবিলম্বে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানায় ফোরাম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, রায়ে খুশি হতে পারিনি। রাষ্ট্রের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা উচিত। ছয়টির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন করাদণ্ডের যে রায় দেয়া হয়েছে আমি তাতে হতাশ হয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান বীর বিক্রম বলেন, এ রায় আমরা মেনে নিতে পারি না। কাদের মোল্লার অবশ্যই ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, রায় প্রত্যাশিত হয়নি। গণহত্যাকারীর জন্য গোটা জাতি বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, মুক্তিযোদ্ধারা যে প্রত্যাশা করেছিলো, এ রায় সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আপিল করা উচিত। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের সার্বজনীন স্বীকৃতি মিলেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করেই ট্রাইব্যুনাল পরিচালিত হচ্ছে সেটা রায়েই বেরিয়ে এসেছে।
শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। আমি খুবই দুঃখ পেয়েছি, মর্মাহত হয়েছি। ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এমএ হাসান বলেন, মিরপুরের এ কসাইয়ের হত্যাকাণ্ড যেখানে প্রমাণিত সেখানে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কখনো যাবজ্জীবন দণ্ড হতে পারে না।
