আজও সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াত

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩১
আজ বুধবারও দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা’র বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকার নির্দেশিত’ হিসাবে উল্লেখ করে এ হরতাল আহবান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। এদিকে হরতালে যে কোন ধরনের নাশকতা পতিহত করতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। গতকাল রাতে রাজধানীর মতিঝিল, শাহবাগ ও পল্টন এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) টহল দেখা গেছে। এ ব্যাপারে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহম্মেদ বলেন, হরতালে নাশকতা প্রতিহত করতে বিজিবি সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর সড়কগুলোতে টহল দেবে। পরবর্তী নির্দেশের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আজ বুধবার পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা টহল দেবে কিনা । বিবৃতিতে রফিকুল বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের নামে আজ ট্রাইব্যুনালে আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকারের নির্দেশিত। সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যেসব বক্তব্য, বিবৃতি দিয়ে আসছেন এ রায়ে তার প্রতিফলন ঘটেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচারের নামে কাদের মোল্লাকে শাস্তি দেয়ার যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল রায়ে তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হলো মাত্র। বিবৃতিতে জামায়াত নেতা বলেন, আদালতের পঠিত সংক্ষিপ্ত রায়ে দেখা গেছে, সরকারের বক্তব্যের যোগসাজশেই এই রায় নির্ধারণ করা হয়েছে। রায়ে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের জন্য আদালতের মাধ্যমে যে রায় ঘোষণা করেছে দেশের জনগণ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, মন্ত্রী রায়ের জন্য যে সময় নির্ধারণ করেছিলেন, সে সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা ও মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউটরদের সঙ্গে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের রায়ের তারিখ ঘোষণা প্রমাণ করে এ রায় সরকারের নির্দেশে, সরকারের পরিকল্পনায়, সরকার নির্ধারিতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ সরকারের বেধে দেয়া ছকে পরিচালিত নীল নকশার বিচার মেনে নিতে পারে না। আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ আব্দুল কাদের মোল্লাসহ সব নেতাকে মুক্ত করে আনবে ইনশাআল্লাহ। জামায়াত নেতা বলেন, আমরা সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষকে বিচারের নামে অবিচারের বিরুদ্ধে আহূত এই হরতাল কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা এবং জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সব জনশক্তিকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। হরতালের আওতামুক্ত সংবাদপত্রের গাড়ি, সাংবাদিক, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি ওষুধ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত গাড়ি এই হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।