রায় প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩২
আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে রায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের নামে ট্রাইব্যুনাল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যে রায় ঘোষণা করেছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকার নির্দেশিত। সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন যাবত্ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যেসব বক্তব্য, বিবৃতি দিয়ে আসছেন এ রায়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচারের নামে আব্দুল কাদের মোল্লাকে শাস্তি দেয়ার যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল রায়ে তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হলো মাত্র। তিনি বলেন, বিশ্বের বিবেকবান মানুষ, মানবাধিকার সংস্থা, দেশি-বিদেশি আইনবিদগণ এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই বিচার, ট্রাইব্যুনাল ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বরাবরই আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই বিচার গ্রহণযোগ্য নয় মর্মে সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সরকার এইসব মতামত উপেক্ষা করে তাদের নির্দিষ্ট ছকেই বিচার কার্য পরিচালনা করে আসছেন। এই বিচারটি কত ষড়যন্ত্রমূলক ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ তা স্কাইপ সংলাপের মাধ্যমে গোটা দুনিয়ার মানুষ জানতে পেরেছে। সংলাপে কোন মামলার রায় আগে, কোনটির পরে, কোন সাক্ষী কি সাক্ষ্য দিবে এসব বিষয়ে সলাপরামর্শ করে মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আব্দুল কাদের মোল্লার রায়ে। মামলার যুক্তি-তর্ক শেষ হয় ১৭ জানুয়ারী। মাত্র ১৮ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা একটি ষড়যন্ত্রের জ্বলন্ত প্রমাণ। আদালত কর্তৃক পঠিত সংক্ষিপ্ত রায়ে দেখা গিয়েছে সরকারের বক্তব্যের যোগ-সাজশেই এই রায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের জন্য আদালতের মাধ্যমে যে রায় ঘোষণা করেছেন দেশের জনগণ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। মন্ত্রী রায়ের জন্য যে সময় নির্ধারণ করেছিলেন সে সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা ও মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউটরদের সাথে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের রেজিষ্ট্রার কর্তৃক রায়ের তারিখ ঘোষণা প্রমাণ করে এ রায় সরকারের নির্দেশ, পরিকল্পনা ও নির্ধারিতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। জনগণ সরকারের বেঁধে দেয়া ছকে পরিচালিত নীল নকশার বিচার মেনে নিতে পারে না। আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ আব্দুল কাদের মোল্লাসহ সকল নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করে আনবে। তিনি বলেন, এ রায় প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি সরকারের ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও বিচারের নামে অবিচারের প্রতিবাদে আমাদের ঘোষিত গণতান্ত্রিক কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।