যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে কাদের মোল্লার ৪৫ বছরের কারদণ্ডের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামি-পক্ষের আইনজীবীরা। আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আমরা বিস্মিত যে, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেয়া এই রায়ের অনেক বক্তব্যই আবেগপ্রসূত। বিচারকের কাছ থেকে আবেগপ্রসূত বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। আমরা এই মামলার শুনানিকালে আমেরিকা ও ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের ৩টি নজির তুলে ধরে দেখিয়েছিলাম যে, একজন বিচারকের শুধু যুক্তিদ্বারাই পরিচালিত হওয়া উচিত, আবেগ দ্বারা নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এই রায় হাইকোর্টের মানদণ্ডের অনেক নিচে অবস্থান করছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ চেম্বারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, রায়ে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি দুঃখজনক এবং কালো অধ্যায়ের সূচনা হলো। ১৮৬০ সালে ভারতবর্ষে হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই রায়টির মত দুঃখজনক একটি রায়ও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই মামলায় কাদের মোল্লা সাহেবকে দোষী প্রমাণ করার মত সাক্ষ্য-প্রমাণের ছিটেফোঁটাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ৬টি অভিযোগের একটিও তারা প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, সাফাই সাক্ষীদের সাক্ষ্যে এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে কাদের মোল্লা ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধের সময় ঢাকা শহরেই ছিলেন না, তিনি তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে ছিলেন। কিন্তু তাদের এ বক্তব্য গ্রহণ না করে মিরপুর অঞ্চলে বিহারি সম্প্রদায়ের কৃত অপরাধের দায় কাদের মোল্লার ওপর চাপানো হয়েছে। সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল এমনকি প্রসিকিউশনের একজন সাক্ষী কবি রোজির লিখিত বইয়ে বিহারিদের কর্তৃক অপরাধ সংঘটনের বর্ণনা এবং সেখানে কাদের মোল্লার কথা কোনরূপ উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও এসব সত্য গোপনকারী সাক্ষীরা নিজের লিখিত বইয়ের তথ্য অস্বীকার করে সরকারি চাপে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে। এরপরও আদালত সেসব সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই সাজা দিয়েছে। বিচারের যেকোন মানদণ্ডে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে মুক্তি দেয়া উচিত ছিল। আমরা মনে করি আপিল বিভাগে এই রায় সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়ে যাবে।
