কাদের মোল্লার যা অপরাধ তাতে তার ৫ বার ফাঁসির আদেশ হতে পারত

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৪
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ায় জাতীয় সংসদে মহাজোটের সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। মেননের পর জাসদের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা আবদুল মান্নান বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত। এতে তার বিরুদ্ধে পাঁচবার ফাঁসির আদেশ হওয়া উচিত ছিল। একপর্যায়ে আরও কয়েকজন সদস্য হাত তুলে বক্তব্য রাখার জন্য ফ্লোর চাইলে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তাতে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, আদালতের বিষয়ে আমরা পরে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। এ মুহূর্তে আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। রাশেদ খান মেনন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি অবিলম্বে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। ট্রাইব্যুনালের রায়ে গোটা জাতি হতাশ হয়েছে, মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাদ আছে, সাপের মুখে চুমু খেতে নেই, সুযোগ পেলেই সাপ ছোবল মারবে। আমরা কিন্তু সেই সাপ নিয়ে খেলছি। মানুষের মধ্যে এই রায় নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, এসব বিষয় পরিষ্কার করতে হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরেই ষড়যন্ত্র চলছে। এ বিচার বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্যও আহ্বান জানানো হচ্ছে। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণসহ ৫টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। অথচ তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলো। আমরা কারো মৃত্যু কামনা করি না কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে তার সর্বোচ্চ দণ্ড হবে এটাই স্বাভাবিক। কসাই কাদের মোল্লার নৃশংসতা এখনও মিরপুরে গেলে দেখা যায়। জামায়াত-শিবির সারাদেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে। অথচ সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামে পুলিশকে জামায়াত-শিবির রজনীগন্ধা দিচ্ছে, আবার রাতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করছে। ট্রাইব্যুনালকে হুমকি দিয়ে গৃহযুদ্ধের কথা বলছে। অথচ প্রশাসন নীরব। মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সমঝোতা হচ্ছে কী না এমন প্রশ্ন এসে যাচ্ছে। একজন কসাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতের এমন রায় নিয়ে গোটা জাতিই ক্ষুব্ধ হয়েছে। সারাবিশ্বের সামনে প্রমাণিত হয়েছে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের ওপর সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। এ জন্যই আদালত গণমানুষের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে রায় দিয়েছে। আইন অন্ধ হতে পারে। কিন্তু আইনের যারা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেন তারা তো অন্ধ নন। তিনি বলেন, মা-বোনের সতীত্ব, নিজেদের অস্তিত্ব এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে আমরা কারোর সঙ্গে সমঝোতা করি না, হতে পারে না। অথচ ‘নন-নেগোশিয়েটেবল’ ইস্যুতেও ‘নিগোশিয়েট’ করা হচ্ছে। এটা সত্যিই পরিতাপের বিষয়। জামায়াত-শিবির দেশে গৃহযুদ্ধ বাঁধানোর চেষ্টা করছে। এরা কোনভাবেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছে না। চট্টগ্রামে তারা দুটি থানায় হামলা করার চেষ্টা করে একজনকে হত্যা করেছে। আবদুল মান্নান বলেন, যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত ৫টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগের কারণে একটি করে মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল। সাধারণ মানুষ গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলছে, ‘একাত্তরে কসাই কাদের মোল্লা যা করেছে তাতে শুধু তার নয়, তার চৌদ্দগুষ্টির ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল।’ ট্রাইব্যুনালের রায় জাতিকে হতাশ করেছে।