ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হলে কঠোর ব্যবস্থা :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের রক্ষায় আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তারাও একই অপরাধ করছে। সরকার এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি পুলিশের ওপর হামলা, মানুষকে পুড়িয়ে অঙ্গার ও সম্পদ ধ্বংসের জন্য দায়ী অশুভ শক্তিকে মোকাবেলা করতে স্বাধীনতা পক্ষের মানুষের প্রতি আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের মদদদাতাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নবনির্বাচিত মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু ও ৪৪ জন কাউন্সিলরের শপথ পরিচালনা করেন। এ সময় মন্ত্রিবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার সম্পর্কে বলেন, আমরা এক মামলার রায় পেয়েছি এবং অপর মামলাগুলোর রায়ও পাওয়া যাবে। ইনশাল্লাহ সব রায়ই তার নিজস্ব গতিতে কার্যকর হবে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম নিয়ে জামায়াতের ছাত্রফ্রন্ট ছাত্রশিবির গঠিত হয়েছে। তারা জানে না মুক্তিযুদ্ধকালে এ দেশে কি ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছিলো। এ জন্য তিনি তাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার আহবান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, যেসব যুবক এখন রাস্তায় যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে আন্দোলন করছে, তারা ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেনি। তাদের অধিকাংশই জানে না, তারা যাদের সমর্থন করছে সেসব ব্যক্তি ১৯৭১ সালে কি জঘন্য অপরাধ করেছে। যদি তারা ১৯৭১ সালের এসব ঘটনা দেখত, আমি মনে করি তারা অবশ্যই লজ্জা পেত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে আন্দোলন জনগণের সমর্থন পাবে না এবং জনসমর্থন ছাড়া কোন রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠে না। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরপরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ৩রা নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে সামরিক আদেশের মাধ্যমে সেই বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেন। প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত মেয়রকে এই কর্পোরেশনের উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। উত্তরাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে গ্যাসের উত্পাদন বাড়াতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।