যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ‘লঘু শাস্তি দেয়ায়’ ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। রায় প্রত্যাখ্যান করে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নয়, ফাঁসি দাবি করেছেন তারা। ট্রাইব্যুনালকে রায়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রীসহ বিভিন্ন সংগঠন।
জামায়াতের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে এক সমাবেশে মিলিত হয়। ইতিমধ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ের সংবাদ পেয়ে ছাত্রলীগ নেতারা তাদের বক্তব্যে রায়টিকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। সমাবেশে ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার কাজ শুরু করে সরকার এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। বিচারের রায়েও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় হয়েছে। কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন শাস্তি দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আমরা কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। রায়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব প্রতিহত করতে ছাত্রলীগ মাঠে থাকবে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। যাবজ্জীবন তার শাস্তি হতে পারে না। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জয়দেব নন্দী, ইমাউল হক সরকার টিটু, যুগ্ম-সম্পাদক শামছুল কবির রাহাত, মামুন অর রশিদ, আনোয়ার হোছাইন, হাসানুজ্জামান তারেক, আব্দুর রহমান জীবন, দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল, সমাজসেবা সম্পাদক কাজী এনায়েত, পাঠাগার সম্পাদক দেলোয়ার রহমান দিপু, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এরশাদুর রহমান চৌধুরী, পরিবেশ সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ।
এদিকে দুপুর সোয়া একটার দিকে রায় প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ ও ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন সংগঠন। মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হওয়া তাদের মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে ট্রাইব্যুনালের দিকে যাত্রা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে সেখানেই সমাবেশ করেন সংগঠনগুলোর নেতারা।
সমাবেশে জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফসীর বলেন, ফাঁসি ছাড়া কাদের মোল্লার অন্য কোনো শাস্তি হতে পারে না। যে রায় হয়েছে তা প্রহসনের রায়। এটি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অপমান। অবিলম্বে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দিতে হবে। বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধেই ফাঁসির রায় দিতে হবে এবং খুব দ্রুত তা কার্যকর করতে হবে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে জনরায় দিয়েছে। অথচ জনরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে তা জনগণ ও ছাত্রসমাজকে হতাশ করেছে। অবিলম্বে রায় পুনর্বিবেচনা করা না হলে ছাত্রসমাজ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান তারেক, ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তানভীর রুসমত, জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সামসুল ইসলাম।
