চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পাঁচ ব্যাংক

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪১
প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া নতুন ৯ ব্যাংকের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন দু’টিসহ মোট পাঁচ ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল বিকালে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন ও চারটি সাধারণ ব্যাংকসহ মোট ৬টি ব্যাংকের মেমো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংকের বিষয়ে বোর্ড অনাপত্তি দিয়েছে। আর একটির বিষয়ে কিছু বিষয় স্পষ্ট করার প্রয়োজন মনে করছে বোর্ড। ওই ব্যাংক এসব বিষয়ে স্পষ্ট করার পর বোর্ড সম্মতি দিলে তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এসকে সুর চৌধুরী বলেন, বোর্ডের অনাপত্তি পাওয়া এ পাঁচটি ব্যাংককে আমরা চূড়ান্ত লাইসেন্স দিতে যাচ্ছি। তবে এক্ষেত্রে আরো কিছু পদ্ধতি রয়েছে বলে জানান তিনি। চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য যেসব ব্যাংক অনুমোদন পেয়েছে সেগুলো হলো এনআরবি কমার্শিয়াল, ইউনিয়ন, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল এন্ড কমার্স, মেঘনা ও এনআরবি ব্যাংক। অন্যদিকে বোর্ডে মেমো ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিল মিডল্যান্ড ব্যাংক। তবে এ ব্যাংকটির বিষয়ে কিছু বিষয় স্পষ্টকরণ করতে বলেছে পরিচালনা বোর্ড। চূড়ান্ত লাইসেন্সের বিষয়ে এসকে সুর চৌধুরী বলেছেন, বোর্ডের অনুমোদন পাওয়া এসব ব্যাংককে রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানী এন্ড ফার্মস (আজেএসসিবি) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কোম্পানী গঠন করতে হবে। এরপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া আর্টিকেল অব মেমোরেন্ডাম ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের কর্মসক্ষমতা আছে কিনা সে বিষয়ে প্রি ইনস্পেকশন (পূর্ব তদন্ত) করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে তাদের সক্ষমতা প্রমাণিত হলে তারা শাখা খোলার অনুমোদনের জন্য আবেদন করবে। ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স পেতে এক সপ্তাহ এবং শাখার জন্য অনুমোদন পেতে কয়েকমাস লাগবে বলে সুর চৌধুরী জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় দু’দফায় নতুনভাবে ৯টি ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ৬টি দেশীয় উদ্যোক্তাদের এবং ৩টি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মালিকানার। অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা এইচ. এন. আশেকুর রহমান। এছাড়া এ ব্যাংকের সঙ্গে রয়েছে রিহ্যাবের সভাপতি নসরুল হামিদ। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস. এম. আমজাদ হোসাইন। ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন ব্যবসায়ী শহিদুল আলম। এছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মহাজোট নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রয়েছেন এ ব্যাংকের সঙ্গে। অন্যদিকে অনুমোদন পাওয়া তিনটি নন রেসিডেনশিয়াল বাংলাদেশি (এনআরবি) ব্যাংকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ব্যবসায়ী ফরাসত আলীর এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ও যুক্তরাজ্য-প্রবাসী ব্যবসায়ী ও সিমার্ক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল আহমেদের এনআরবি ব্যাংক চূড়ান্ত লাইসেন্সের অনুমোদন পেয়েছে।