অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট আমাদের দেশের অন্যতম একটি পেশা হিসেবে ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক তরুণ এখন নামছেন এই পেশায়। তবে যাদের হাত ধরে এ দেশে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের যাত্রা শুরু, তাদের মধ্যে অন্যতম মির্জা ওয়াহিদ। প্রায় দুই যুগ হলো তিনি এ পেশায় আছেন। সরকারি-বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক সব ইভেন্ট সফল হয়েছে তার হাতের ছোঁয়ায়। প্রতিষ্ঠা করেছেন ইভেন্ট এক্সপ্রো নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন অচিন্ত চয়ন।
চাকরি বা অন্য পেশায় না গিয়ে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মতো একটি কঠিন পেশায় কেন এলেন?
আসার কারণ হলো এটা অল-ক্রিয়েট একটা জব। আমি আমার মেধা দিয়ে যা ক্রিয়েট করছি, আমার গ্রাহক সেটা নিয়ে সুখী; এখানে আমার প্রশান্তির কারণ আমার উদ্ভাবনকে তারা প্রাধান্য দিচ্ছে, বাহবা দিচ্ছে। এই বিষয়গুলোর জন্যই আমি ধীরে ধীরে আমার অবস্থানটাকে শক্ত করেছি। ছোটবেলা থেকেই আমার নিজের মধ্যে কিছু একটা করার আত্মবিশ্বাস ছিল। এ কারণেই মূলত আমি এ পেশায় এসেছি।
আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এখন কোন পর্যায়ে আছে?
আন্তর্জাতিক বিচারে আমাদের দেশের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। কারণ হলো এখনও অনেকে ইভেন্ট বলতে শুধু বিয়ে-শাদী’র ইভেন্ট বুঝে থাকে। কিন্তু আসলে তা নয়। ইভেন্ট অনেক বড় একটা মাধ্যম। অনেক বড় একটা শিল্প।
তাহলে আপনার কাছেই জানতে চাই, এই প্রাথমিক পর্যায় কাটিয়ে আমরা কীভাবে সামনে এগুতে পারি?
মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশটা খুব ছোট। সেদিক থেকে আমাদের ইভেন্টের বাজারটাও খুব ছোট। আমি একটা বড় ইভেন্ট করতে গেলে যে ধরনের সাপোর্ট দরকার সে ধরনের সাপোর্ট আমাদের দেশে নেই। যেমন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট আমাদের দেশে হয়ে গেল, আমাদের ফুল সাপোর্ট আনতে হয়েছে দেশের বাইরে থেকে। ভারত, থ্যাইল্যান্ড, চীন এদের সহযোগিতায় আমাদের ইভেন্টটা করতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো একটা ইভেন্ট নির্ভর করে বাজেটের উপর। অনেকটা যত গুড় তত মিষ্টি টাইপ। কষ্টের কথা হলো, আমাদের দেশে ওরকম পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি।
তরুণরা এই পেশায় আসতে চাইলে তাহলে আপনার পরামর্শ কী?
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট একদিকে যেমন তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়, তেমনি এটি পরিকল্পনার সৃজনশীল কাজও বটে। অনেকে বিজ্ঞাপনী সংস্থা বা অ্যাডফার্ম এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টকে একই রকম মনে করে। কিন্তু বিজ্ঞাপনী সংস্থা একটা পণ্য নিয়ে কাজ করে। বিজ্ঞাপনী সংস্থার চেয়ে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রটা অনেক বড়। কারণ এখানে ক্রিয়েটিভিটি, সাংগঠিনক দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা, সুপারভাইজ করার কাজ আছে। এসব কারণে একটা ছেলে বা মেয়েকে অনেক বেশি উপস্থিত বুদ্ধি, শৈল্পিক মানসিকতা ও প্রচণ্ড পরিশ্রম করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এসব বিষয় যার মধ্যে আছে সে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট পেশায় আসতে পারে।
