‘কার কাছে বিচার চাইবো’

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৬
নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারো বিচার হয়নি। এসব ঘটনায় মামলা হয়, কয়েক জনকে গ্রেফতার করাও হয়। কিন্তু কারো বিচার হয় না। গত বছরের ২১ এপ্রিল খিলগাঁও ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশে হরতাল সমর্থনকারীরা প্রকাশ্যে ঈগল পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পুড়ে মারা যান ঘুমন্ত বাস চালক বদর আলি বেগ। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে আগুনে পুড়ে মরলো তরুণ ব্যাংক কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদ। পরিবারের ভরণপোষণের বোঝা যে মানুষ-গুলো বইতেন, তাদের হারিয়ে স্বজনদের যে দুঃখ-দুর্দশা পোহাতে হয়, তার খবরও কেউ রাখে না। আর এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না পেয়ে আক্ষেপ করে স্বজনরা বলেছেন, ‘কার কাছে বিচার চাইবো? ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা টাকা দিয়ে আইনের ফাঁক-ফোকর গলে পার পেয়ে যায়। নিরবে চোখের পানি ফেলাই আমাদের নিয়তি।’ বাস চালক বদর আলি বেগের চাচাতো বোন ও খুলনা ফুলতলা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন নাহার কুমকুম জানান, সরকারি ও বেসরকারিভাবে কিছু আর্থিক সাহায্য পেয়েছিল বদর আলির পরিবার। বদর আলি বেগকে কে বা কারা পুড়িয়ে মেরেছে এর কিছুই জানেন না তারা। এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষও তার পরিবারের সঙ্গে কোন যোগাযোগ করেনি। ১০ মাসে হত্যা মামলার কি ফলাফল তাও তারা জানেন না। বদর আলির স্ত্রী হাওয়া বেগম কিডনির রোগে আক্রান্ত। এ ব্যয়বহুল চিকিত্সার খরচ যোগান তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিন সন্তান নিয়ে অসুস্থ হাওয়া বেগমের সংসারের চাকা ঘুরছে না। বদর আলী হত্যা মামলাটি তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কর্মকর্তা (ডিবি-দক্ষিণ) নুরুন্নবী বলেন, বদর আলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কেউ নিজেকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। মামলার চার্জশিট এখনো দেয়া হয়নি। গত সোমবার জেএম পরিবহনের বাসে হরতালকারীরা আগুন দিলে পুড়ে মারা যান এবি ব্যাংক কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদ। আহত হন তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। রাসেলের দক্ষিণখান নর্দা মোল্লাবাড়ি এলাকার ৩৮৬ নম্বর বাসায় গতকালও ছিল সাধারণ মানুষের আনাগোনা। রাসেলের বাবা-মা, ভাই, রাসেলে স্ত্রী তন্নী দেড় মাস বয়সী শিশু পুত্র রাফিকে কোলে নিয়ে শুধু কাঁদছেন। গতকাল পর্যন্ত পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কোন লোক তাদের কাছে আসেননি বলে জানান স্বজনরা। আগামীকাল শুক্রবার বাদ আসর দক্ষিণখান মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে রাসেলের কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে। উত্তরা (পূর্ব) থানার ওসি জানান, রাসেল মাহমুদ হত্যাকাণ্ডে বেলাল নামে এক শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারে তার নাম নেই। তবে তদন্তে তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, বাসে আগুন দিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা ও বাস চালক পুড়িয়ে মারার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।