ভাওয়াল খানবাড়ি ও ঘাটার চর এলাকার দুটি গ্রামে ১১ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার দায় থেকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে অব্যাহতি দেয়ার বিরুদ্ধে আপিল করার ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের প্রধান সমন্বয়কারী অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এমকে রহমান ইত্তেফাককে বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগটি প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে সেটিই চ্যালেঞ্জ করা হবে আপিল বিভাগে। আইন অনুসারে ৩০ দিনের মধ্যেই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার তাদের দ্বিতীয় রায়ে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা দেয়া হয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাত্ক্ষণিকভাবে ট্রাইব্যুনালের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, বিভিন্ন বাম দলসহ জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যও কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এমকে রহমান বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর গণহত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে ওই অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। রায়ের ওই অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করেই প্রসিকিউশন আপিল করবে। তিনি বলেন, আপিল করার পর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের পুরো রায় বিবেচনায় নিয়ে আপিল বিভাগের আদেশ চাইতে পারে। সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় যে কোনো বিষয়ে আপিল বিভাগ আদেশ দিতে পারে।
