বাজারে এক মণ লবণ বিক্রি করে ছোট মানের আড়াই’শ গ্রাম চিংড়ি ক্রয় করা এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাদনের টাকায় লবণ চাষ করে উপজেলার শত শত চাষী বিনিয়োগকৃত পুঁজি তুলতে পারবে কিনা তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছে। কারণ মাঠে লবণ উত্পাদন অব্যাহত থাকলেও মধ্যস্বত্বভোগী দালাল ফড়িয়াদের কারসাজিতে চাষীরা লবণের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। লবণ চাষীদের লাঞ্ছনা আর দুর্ভোগের কথাগুলো বলেছেন, চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের লবণ চাষী শফিউল আলম এবং পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটার ইউপি মেম্বার ইকবাল দরবেশী। তাদের মতে, এক মণ লবণ উত্পাদন করতে চাষীদের ব্যয় হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। অথচ সেই লবণ মণপ্রতি বিক্রি করতে হচ্ছে ৪০/৪৫ টাকায়। এ কারণে চাষীরা তাদের আদি এ পেশায় ঠিকে থাকতে পারছে না। ফলে সিংহভাগ লবণ চাষী চলতি মৌসুম শুরুর ২ মাস সময় অতিবাহিত হলেও এখনো পুরোদমে লবণ চাষাবাদে নামেনি। গেল মৌসুমে দেশের চাহিদার অতিরিক্ত লবণ উত্পাদন করেও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির ফলে চাষীরা লবণের ন্যায্য মূল্য থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হওয়ায় চকরিয়া, পেকুয়া কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় এলাকার সিংহভাগ লবণ চাষী মাঠে নামছে না। এসব উপজেলার সিংহভাগ জমি ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
জানা গেছে, এসব উপজেলার লবণ চাষীরা প্রতিবছর নভেম্বর মাস থেকে লবণ উত্পাদনের জন্য মাঠে নেমে পড়ে। কিন্তু গত বছর উত্পাদিত লবণ বিক্রি করে চাষীরা তাদের খরচ উঠাতে পারেনি। এমনকি অধিকাংশ লবণ এখনো অবিক্রীত অবস্থায় গুদামে ও মাঠের গর্তে পড়ে রয়েছে। এসব এলাকার লবণ চাষীদের মতে, চলতি মৌসুমে উপকূলীয় এলাকার অর্ধেক জমিতে লবণের চাষ হবে না।
উপজেলার দরবেশকাটা এলাকার বাসিন্দা ইউপি মেম্বার ইকবাল দরবেশী জানান, এক মণ লবণ বিক্রির টাকায় তারা বাজার থেকে দেড় কে.জি বেগুন অথবা আড়াইশ গ্রাম ছোট মানের চিংড়ি সওদা করতে পারছেন না ঠিকমত। এছাড়াও দিন দিন শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বেশির ভাগ লবণ চাষী লবণ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
স্থানীয় একটি সূত্র মতে, লবণ জমির অধিকাংশ মালিক নিজের অর্থে চাষী যোগাড় করতে গিয়েও লবণ চাষি খুঁজে পাচ্ছেন না। উপজেলার লবণ চাষী হেলাল উদ্দিন জানান, গত মৌসুমে জেলায় অতিরিক্ত লবণ উত্পাদন হওয়ার পরও বিদেশ থেকে লবণ আমদানি অব্যাহত থাকার কারণে লবণ চাষীরা উত্পাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যেখানে মিল মালিকেরা প্রতি কে.জি আয়োডিন মিশ্রিত প্যাকেটজাত লবণ ১৫-২০ টাকায় বিক্রি করছে, সেখানে মাঠে কঠোর পরিশ্রম করে উত্পাদিত লবণ প্রতি মণ লবণ বিক্রি করে চাষীরা পাচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। ফলে লবণ চাষের সুফল যাচ্ছে মিল মালিকদের গোলায়।
কক্সবাজার বিসিকের কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন জানান, কয়েক মৌসুম ধরে কক্সবাজারের লবণ চাষীরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে এবার লবণ চাষ কমছে।
