মির্জাপুরে প্রভাবশালীরা ১৩টি সরকারি খাল দখল করে ইটভাটা, সিএনজি ও তেলের পাম্প স্থাপন এবং পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে অনাবাদী রয়েছে। তিন ফসলি এসব জমিতে কোন ফসল ফলাতে না পেরে কৃষক চরম বিপাকে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষি অফিস, বিএডিসি এবং উপজেলা পরিষদের মধ্যে রশি টানাটানির ফলে খাল দখলমুক্ত এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার জামুর্কি খাল, বানাইল-কুড়ালিয়াপাড়া, নরদানা-বাঙ্গলাখাল, শুভুল্লা-ধল্লা, ফতেপুর, সোহাগপাড়া, ভাদগ্রাম, কুমারজানি-বাইমহাটি, লতিফপুর, আজগানা ও পাথরঘাটাসহ ১৩/১৪টি খাল দখল করে প্রভাবশালীরা পাকা ঘরবাড়ি তৈরি করেছে। ফলে পানি প্রবাহিত হতে না পেরে ঐ সব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে জামুর্কি, মহেড়া, ফতেপুর, বানাইল, আজগানা, তরফপুর এবং গোড়াই ইউনিয়নে বিভিন্ন বিলের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর তিন ফসলি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে কৃষক এখন আর সরিষা,ধান, গম, পাট, আলু, বাদাম ও সবজি ফলাতে পারছেন না।
বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে ক্ষেতের পর ক্ষেত পানির নিচে ডুবে রয়েছে। অথচ ৩/৪ বছর আগেও এই জমিতে সরিষা, গম, আলু ও বিভিন্ন প্রজাতির সবজির আবাদ হতো। এই এলাকার কাটরা-কদিমধল্লা-শুভুল্লা খালটির দু’পাশ প্রভাবশালীমহল দখল করে ইটভাটা, সিএনজি স্টেশন, তেলের পাম্প,ও পাকা ঘরবাড়ি তৈরির ফলে খাল দিয়ে কোন পানি নিষ্কাশন হতে পারে না । কৃষি বিভাগ এবং বিএডিসি জলাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্ু্ত আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বসাক জানান, এলাকার প্রভাবশালীমহল খাল দখল করে পাকা ঘরবাড়ি, ইটভাটা, সিএনজি ও তেলের পাম্প এবং কল-কারখানা স্থাপনের ফলে বিলের পানি বের হতে পারছে না। খাল দখলমুক্ত এবং বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য লিখিত অভিযোগ কৃষি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বিএডিসি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
