চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা দিনে সরব রাতে নীরব

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৮
চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দকে দিনে সভা-সমাবেশে দেখা গেলেও রাতে পাওয়া যায় না। এমনকি জামায়াত শিবিরের সক্রিয় কর্মী সমর্থকরা রাতে আত্মগোপন করে থাকেন। তাছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসীন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলসমূহে পূর্বে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে দেখা গেলেও এখন তেমন একটা দেখা যায় না। কিন্তু সভা-সমাবেশসহ সকল কর্মসূচিতে তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এবং নগর জামায়াত শিবিরের একাধিক সূত্রে জানা যায়, পুলিশের ধরা পড়ার ভয়ে তারা গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। শিবিরের মতো জামায়াতের নেতা-কর্মীরাও রাতের বেলায় নিজ বাসা-বাড়িতে থাকেন না। বিভিন্ন পর্যায়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, চিহ্নিত জামায়াত শিবির নেতৃবৃন্দ সাধারণত লোকচক্ষের আড়ালে চলাফেরা করে থাকেন। জানা গেছে, বিগত কয়েক দিনের হরতাল ও অন্যান্য কর্মসূচিতে নগরীতে যে সকল কর্মী-সমর্থক সক্রিয় ছিল তারা সাধারণত জেলা এবং জেলার বাইরে থেকে আসা জামায়া- শিবিরের লোকজন। তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন পয়েন্টে সমবেত হয়ে থাকে। আগামীকাল শনিবার হরতাল কর্মসূচি পালনের জন্য জেলার বিভিন্ন অংশ থেকে কর্মী-সমর্থককে জড়ো করার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েকটি হরতালে অলংকার মোড়, দেওয়ানহাট, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর এলাকায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত জামায়াত-শিবির কর্মীদের অধিকাংশই অপরিচিত বলে এলাকার লোকজন জানান। জামায়াত শিবিরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, তারা সাধারণত এক এলাকা থেকে গিয়ে অন্য এলাকায় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। তাই পুলিশ ওই সকল এলাকার জামায়াত-শিবিরকে চিহ্নিত করতে পারছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতি পুলিশের পক্ষ থেকে জামায়াত শিবিরের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সংঘর্ষের ঘটনায় তোলা ভিডিও ফুটেজ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নগরীর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন সেলিম জানান, অপরিচিত লোকজনকে চিহ্নিত করার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির নেতৃত্বে পরিচিতরা থাকলেও সংঘর্ষের ঘটনার সাথে বেশীর ভাগ অপরিচিত লোকজনকে দেখা যায়। জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গত কিছুদিন ধরে চলা জামায়াত-শিবিরের কর্মসূচিসমূহে স্কুল-কলেজের ছেলেদের আনছে। জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আমাদের কর্মসূচিসমূহে নতুনদের অংশগ্রহণ বেশি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পুরনো নেতৃবৃন্দ সংবাদ না পাওয়ায় কর্মসূচিসমূহে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।