‘তিন মাসের প্রেম দশ মিনিটেই খুন’

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪৪
মোবাইল ফোনে মিস কল। এরপর ফিরতি কল। তার পর শুরু। আর প্রেম পর্যায় আসতে সময় লাগে সবমিলিয়ে তিন মাস। আকাশ সম স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার। প্রথম দর্শন হোটেলে। এক সঙ্গে থাকা কয়েক ঘন্টা। জানা গেল তরুণী বিবাহিতা ও দু’সন্তানের জননী। সবকিছু শুনে মাথা ঠিক রাখা যায়নি। ফলে বালিশ ১০ মিনিট মুখ চেয়ে ধরার পরই মারা যায়। রাজধানীর বংশালস্থ নিউ শুভেচ্ছা হোটেলে নিহত তরুণী বৃষ্টি হত্যাকারী আলকাস ওরফে রিজভীর। বংশাল থানা পুলিশ বুধবার গভীর রাতে তাকে পুরনো ঢাকার সিদ্দিকবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। বুধবার রাতে পুলিশ হোটেল থেকে ঐ তরুণীর লাশ উদ্ধার করে সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। বংশাল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল হাসান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে রিজভী জানায়, তিন মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃষ্টির সঙ্গে তার পরিচয় এবং প্রেম। গত সোমবার তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় শুভেচ্ছা আবাসিক হোটেলের ৩৪৫ নম্বর কক্ষে ওঠে। হোটেলে অবস্থান করার পর রিজভী জানতে পারে বৃষ্টি স্বামী ও দু’টি মেয়ে সন্তান আছে। এ নিয়ে বৃষ্টি সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরই এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বৃষ্টির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ও মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে হোটেল কক্ষে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায় রিজভী। হোটেলের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম সোহাগ ও অনুপ কুমার সেন কক্ষটির দরজায় তালা দেখে সঙ্গে সঙ্গে বংশাল থানা পুলিশকে জানায়। থানার কর্তব্যরত সাব-ইন্সপেক্টর শাহ মো. সাজু মিয়া ফোর্সসহ বুধবার রাতে তালাবদ্ধ কক্ষের বাইরে থেকে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। তিনি আরো বলেন, কক্ষের তালা-চাবির বিষয়ে হোটেল ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম সোহাগ ও ম্যানেজার অনুপ কুমার সেনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় কক্ষের বোর্ডার রিজভী সে ও তার স্ত্রী বৃষ্টির নামে কক্ষটি ভাড়া নিয়ে সোমবার থেকে অস্থান করছিলো। হোটেল ম্যানেজার সোহাগ জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বোর্ডার রিজভী রাতের খাবার আনার কথা বলে বাইরে যায়। হোটেলের প্রধান গেট বন্ধ করার সময় রিজভী হোটেলে না আসলে তার স্ত্রীর কাছে খোঁজ নিতে গেলে কক্ষটির দরজা বাইরে থেকে তালা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করে কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে বংশাল থানাকে অবহিত করে। ওসি জানান, পরবর্তীতে হোটেলের রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ নিহত বৃষ্টির স্বামী পরিচয়দানকারী রিজভীর নাম-ঠিকানা যাচাই করে ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার শংকরখালী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মো আ. ওহাবের ছেলে রিজভী (২৪)। অপরদিকে বৃষ্টির বাড়িও নবাবগঞ্জ এলাকায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বৃষ্টির স্বামী মর্গে লাশ সনাক্ত করেন।