এইচএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো।
জীবন-বন্দনা
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)
ক.যীশু কে? ১
খ.‘কাটি অরণ্য রচিয়া অমরাবতী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা করো। ২
প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর :যীশু মা মেরীর সন্তান।
প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর:কবি তারুণ্যের উদ্যম ও সাহস বোঝাতে উক্তিটি করেছেন।
তারুণ্যের শক্তিতে শক্তিমান হয়েই কবি পৃথিবীর সকল বাধা দূর করতে চেয়েছেন। তরুণদের গতির ছোঁয়া পেয়ে উল্কার মতো অমিত বেগে পৃথিবী ঘুরছে। তারা তাদের খেয়াল-খুশিতে অরণ্য কেটে সুখের অমরাবতী নির্মাণ করেছে। অর্থাত্ তরুণেরা পৃথিবীর সকল জঞ্জাল সরিয়ে তাকে বসবাস উপযোগী করতে সক্ষম।
উত্তরের সারবস্তু : ‘কাটি অরণ্য রচিয়া অমরাবতী’ বলতে বোঝানো হয়েছে তরুণরা পৃথিবীর সকল জঞ্জাল সরিয়ে তাকে বসবাস উপযোগী করতে সক্ষম।
ক.‘কূপমন্ডুক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কী? ১
খ.‘আষাঢ়ের গিরি-নিঃস্রাব’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? বর্ণনা করো। ২
প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর
‘কূপমন্ডুক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কুয়োর ব্যাঙ।
২ নম্বর প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর
উদ্ধৃত শব্দগুচ্ছ দিয়ে কবি তারুণ্যের বাধাহীন অমিত বেগের পথে শক্ত প্রতিরোধের কথা বুঝিয়েছেন। তারুণ্যের শক্তিতে শ্রমজীবী মানুষ সকল বাধা অতিক্রম করে নতুন জীবন গড়ার জন্যে সামনে এগিয়ে যায়। ‘আষাঢ়ের গিরি-নিঃস্রাব’ বলতে বর্ষাকালের নদী বা ঝরণার জলস্রোতের প্রচণ্ড গতিশক্তিকে বোঝায়। সেই শক্তিকেও তারা পরোয়া না করে নতুন জীবনের দিকে ছুটে যায়। কারণ তারা কাজ করে মানবকল্যাণে।
উত্তরের সারবস্তু : ‘আষাঢ়ের গিরি-নিঃস্রাব’ বলতে বর্ষাকালের নদী বা ঝরণার জলস্রোতের প্রচণ্ড গতিশক্তিকে বোঝায়। অর্থাত্ বাধার শক্তি বোঝাতে এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহূত হয়েছে।
ক.‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় উল্লে¬খিত ‘অমরাবতী’ শব্দের অর্থ কী? ১
খ.‘যুগে যুগে যারা করে অকারণ বিপ¬ব অভিযান’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। ২
প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর:‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় উল্লেখিত ‘অমরাবতী’ শব্দের অর্থ হলো স্বর্গ।
প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর:পঙিক্তটিতে তারুণ্যের বিপ¬বী সত্তার পরিচয় ফুটে উঠেছে। সমাজ, সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ইতিহাসের নির্মাতা মূলত তারুণ্য তথা যুবশক্তি।
শ্রমজীবী তারুণ্যই দুর্গম পাহাড় কেটে করেছে সমতল, অরণ্য কেটে তৈরি করেছে আলোকিত জনপদ। দেশে দেশে যুগে যুগে তরুণরা এমনিভাবে অমিত তেজে বিপ¬বস্পন্দিত চিত্তে এগিয়ে চলেছে অবাধগতিতে। তারা মৃত্যুকে পরোয়া করে না। দুর্যোগময় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ বাজি রেখে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় প্রাণের উল্লাসে। তারুণ্যের শক্তি সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মানবমুক্তির লক্ষ্যে বিপ¬বী সংগ্রামে অংশ নেয়। এ তারুণ্যশক্তি মানবমুক্তির পথে কোনো বাধা মানে না, বরং নির্দ্বিধায় আত্মাহুতি দেয় বিপ্ল¬বী সংগ্রামে।
উত্তরের সারবস্তু : তারুণ্যের শক্তি সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মানবমুক্তির লক্ষ্যে বিপ্ল¬বী সংগ্রামে অংশ নেয়।
ক.ছেলেবেলায় কাজী নজরুল ইসলাম কোন গানের দলে যোগ দেন? ১
খ.‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় ‘ক্ষুদ্রমনা’ বলা হয়েছে কাদের - বুঝিয়ে দাও। ২
প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর :ছেলেবেলায় কাজী নজরুল ইসলাম লেটো গানের দলে যোগ দেন।
প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর:সমাজ প্রগতির পথে যারা অন্তরায়, প্রতিক্রিয়াশীল ও সংকীর্ণমনা তাদেরকেই ক্ষুদ্রমনা বলা হয়েছে এ কবিতায়।
কবি শ্রমজীবী তারুণ্যের জয়গান গাইবার মাধ্যমে সংকীর্ণমনা ও প্রতিক্রিয়াশীলদের মনোভাবকে কটাক্ষ করেছেন। ক্ষুদ্রমনা এসব মানুষ জগত্ সংসারে জড়ভাবাপন্ন। তাদের সৃষ্টিশীল সম্ভাবনা স্থগিত হয়ে গেছে। এ শ্রেণির মানুষ সমাজের বৃহত্ কোনো পরিবর্তনকে সহ্য করতে পারে না; নতুন সম্ভাবনা এবং বিপ¬বকে ভয় পায়।
উত্তরের সারবস্তু :
সমাজ প্রগতির পথে যারা অন্তরায়, যারা প্রতিক্রিয়াশীল ও সংকীর্ণমনা তাদেরকেই ক্ষুদ্রমনা বলা হয়েছে এ কবিতায়।
