বৃহত্তর বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক আয়োজিত জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের সাথে মেজনিন (মেয়েদের জন্য নিরাপদ নাগরিকত্ব) কর্মসূচির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা গত ৩১ জানুয়ারি সিলেট নগরীর অভিজাত হোটেলে ব্রিটানিয়া মিলনায়তন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মূল প্রবন্ধে বলা হয় যৌন হয়রানিকে উত্ত্যক্তকরণ, টিজিং বা যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন এটি নারী নির্যাতনের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। ‘নারী ও কিশোরীদের প্রতি সব রকম সহিংসতা ও যৌন হয়রানি নির্মূলকরণে’ ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি বিভাগ ‘মেয়েদের জন্য নিরাপদ নাগরিকত্ব (মেজনিন)’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই কর্মসূচি যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির পাশাপাশি, শিক্ষক, অভিভাবক, বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনী, গণমাধ্যম সম্পাদক, সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যম কর্মীসহ নাগরিক সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার সদস্যদের সক্রিয় অবস্থান তৈরি এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। আর এ লক্ষ্যে সিলেট জেলার ২০টি স্কুলসহ সারাদেশে ৪শটি স্কুলে এ কাজ চলছে। মেজনিন কর্মসূচির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র ইত্যাদি বিষয়ে মতবিনিময়ের জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।
প্রবন্ধে ‘যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে মিডিয়ার ভূমিকা, আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় নারী অধিকার ও সম্মান ক্ষুণ্ন হয় এমন শব্দ ব্যবহার না করা, নির্যাতনের শিকার নারীর নাম, ঠিকানা ও ছবি না ছাপানো, নারী নির্যাতন সংক্রান্ত ফলোআপ রিপোর্টিং করা, নারীকে ভোগ্য পণ্য হিসেবে না দেখিয়ে ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা, ভোক্তা হিসেবে নারীকে না দেখিয়ে উত্পাদক হিসেবে উপস্থাপন করা, নাগরিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে নির্যাতনের ঘটনা ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগসমূহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তুলে ধরা, মেজনিন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত স্কুল ভিজিট করে শিক্ষার্থী, স্টুডেন্ট ওয়াচগ্রুপ, কমিউনিটি ওয়াচগ্রুপ ও শিক্ষকদের সাথে ডায়লগ এবং তাদের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরা, কমিউনিটি ওয়াচগ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ‘ওয়াচ ডগ’ হিসেবে ভূমিকা পালন করা, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী যৌন হয়রানি নির্মূলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে কমিটি গঠন ও কার্যাবলী সম্পর্কে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করা, মিডিয়ার সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন বা নাটক তৈরি ও প্রচার করা; বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষা, মেজনিনের আওতাভুক্ত স্কুলগুলোতে টিফিনের ফাঁকে, সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাঠক ফোরাম বা দর্শক ফোরাম বিভিন্ন নামে যে সংগঠন রয়েছে তাদের নানা ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিষয়গুলো তুলে ধরা, যৌন হয়রানি নির্মূলে নেটওয়ার্ক ও এলায়েন্সে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হওয়া ইত্যাদি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি আহমেদ নূর বলেন, যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি তা আমাদের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আইন প্রয়োগ করে শাস্তির বিধান করলেই যৌন হয়রানির মত সামাজিক ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না। যথাযথ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নারীর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ ও সহিংস সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটিয়ে নারী-পুরুষের অংশীদারিত্বমূলক, সহমর্মিতাপূর্ণ, দায়িত্বশীল, সুস্থ সম্পর্কের বিকাশের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সকলকে সম্মিলিত ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর, সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, ইকরামুল কবীর, মো. ইউসুফ আলী, সিদ্দিকুর রহমান, ইমদাদ হোসেন দিপু, এমএম মতিন, কবীর আহম্মেদ সোহেল, মোহাম্মদ তাজউদ্দিন, রুদ্র মিজান, এনামুল হক জুবের প্রমুখ সাংবাদিকবৃন্দ।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মেজনিন কর্মসূচির সিনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট মীর সামসুল আলম। সভায় উপস্থিত ছিলেন মেজনিন কর্মসূচির রবিউল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, মেরুনা আক্তার, সালাহ্উদ্দিন। সভা পরিচালনা করেন জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি মো. মশিয়ার রহমান।
