মহাসমাবেশে ছিলেন সব শ্রেণি পেশার মানুষ

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২৩:১৩
সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন শাহবাগে। ছাত্র-শিক্ষক, কারখানার শ্রমিক, দিনমজুর, ড্রাইভার, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, বেকার, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী সব পেশার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন শাহবাগের মহাসমাবেশে। ছিলেন না শুধু রাজনৈতিক দলের বড় মাপের নেতা বা সরকারের মন্ত্রীদের কেউ। অবশ্য মহাসমাবেশ আহ্বানকারীদের পক্ষ থেকে আগে থেকেই জানিয়ে দেয়া হয়েছিলো এটি হবে ‘রাজনীতিমুক্ত মহাসমাবেশ’। এজন্য রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ মঞ্চের বাইরে লাখো মানুষের সাথে একাত্ম হলেও শীর্ষ কোন নেতাকে মঞ্চে বা এর আশপাশে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার শাহবাগে গিয়ে উত্তাল জনতার তোপের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফ। এরপর ঘোষণা আসে শুক্রবারের মহাসমাবেশে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বক্তব্য রাখতে পারবেন না। জানা গেছে, এ ঘোষণার পর রাজনীতিবিদরা আর শাহবাগ মোড়ে যাননি। তবে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা মহাসমাবেশে যোগ দিয়েছেন। এসব সংগঠনের নেতারা বক্তব্যও রেখেছেন। তাদের বক্তব্যও একাত্ম হয়ে মিশে গিয়েছিলো প্রতিবাদী তারুণ্যের সাথে। অবশ্য মঙ্গল ও বুধবার মন্ত্রীসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা শাহবাগে বক্তব্য দিয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে এসেছেন। ঝিগাতলার মামুন কোনদিন রাজনৈতিক সমাবেশে যাননি। তিনি জানান, শাহবাগের জনস্রোত আমাকে টেনেছে কয়েকদিন ধরে। ছুটির দিন বলে আসলাম। সকালে পত্রিকায় যখন দেখলাম, রাজনীতিবিদরা থাকবেন না তখন আমি আরো বেশি উত্সাহী হয়েছি। এরকম একটি বিশুদ্ধ সমাবেশে আসতে অনেকে উত্সাহী হয়েছেন বলে তিনি জানান। কল্যাণপুর থেকে রাশেদ আহমেদ এসেছেন পাঁচ বছরের বাচ্চা নিয়ে। তিনি বলেন, ঘরে বসে থাকতে পারছিলাম না। সকালে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাবো। আসার সময় ছেলেটা বায়না ধরলো। তাকেও নিয়ে আসলাম। রাজনৈতিক সমাবেশ হলে নিশ্চয়ই আমি যেতাম না। ততক্ষণে রাশেদ আহমেদের ছেলে বলা শুরু করেছে ‘তুই রাজাকার, তুই রাজাকার’। এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেসব সমাবেশ হয়েছে সেগুলোতেও রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য দিতে দেয়া হয়নি। চট্টগ্রামে সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গেলে তাকেও তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। বিকালে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে তিনি স্থানীয় প্রেসক্লাব চত্বরে আসেন। এ সময় মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়, ‘মহিউদ্দিন চৌধুরী আন্দোলনে সমর্থন জানাতে এসেছেন।’ উপস্থিত সবাই করতালি দিয়ে স্বাগত জানালেও বক্তব্য দেয়ার জন্য মাইকে তার নাম ঘোষণা করার পর বাঁধে বিপত্তি। সমবেতরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে মহিউদ্দিন চৌধুরী এলাকা ত্যাগ করেন।