চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখান প্রেসক্লাব চত্বরে জনসমুদ্র থেকে তারুণ্যের গর্জন, ‘কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই, যুদ্ধাপরাধীরা বাংলা ছাড়।’ গতকাল শুক্রবার তৃতীয় দিনেও নগরীর সেন্ট প্লাসিডস স্কুল থেকে চেরাগীপাহাড় মোমিন রোড পর্যন্ত জামালখান সড়ক এলাকা তরুণ প্রজন্মসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষের প্রতিবাদী সমাগমে উত্তাল হয়ে উঠে। গান, কবিতা, আবৃত্তি, পথনাটক, শ্লোগানে মুহুর্মুহু প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিলো পুরো এলাকা। তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, কাদের মোল্লাসহ বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরে যাবে না।
গতকাল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সমবেত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করান শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফি। উদীচী, চারণ, প্রমা, বোধনসহ চট্টগ্রামের অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের শতশত নেতা-কর্মী দিনভর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি করে ও স্বাধীনতার চেতনা জাগানিয়া নানা অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। এ কর্মসূচির কারণে প্রকৃতপক্ষে গত বৃহস্পতিবার থেকেই জামালখান সড়ক গণজাগরণের চত্বরে পরিণত হয়েছে। সেখানে চলছে না কোনো যানবাহন।
চট্টগ্রামে প্রেসক্লাব চত্বরকে কেন্দ্র করে জামালখান এলাকায় প্রতিবাদী তারুণ্যের এই কর্মসূচির সাথে গত বৃহস্পতিবার সংহতি প্রকাশ করে গেছেন সাম্যবাদী দলের নেতা ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগরী আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তারুণ্যের এই সমাবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করছেন সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস, নাজিমুদ্দিন শ্যামল, মিন্টু চৌধুরী, রাশেদ হাসান, শরীফ চৌহান, সুনীল ধর ও দ্বৈপায়ন বড়ুয়া। তারা জানান, একাত্তরের ঘাতক কাদের মোল্লাসহ বিচারাধীন সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে জামালখান এলাকায় গত বুধবার প্রথম কর্মসূচি শুরু করে সামপ্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ। পরে স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল প্রগতিশীল তরুণ ও জনতা এতে সামিল হয়। তারা জানান, এখানে স্বাধীনতার পক্ষের সবদলের নেতারা সংহতি প্রদান করতে পারবেন। তবে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য চলবে না। এদিকে গোলপাহাড়ের মোড় চত্বরেও অনুরূপ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য চলাকালে প্রতিবাদ
গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জামালখান ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে বক্তব্য রাখতে আসেন। তিনি মাইক হাতে বক্তৃতা শুরু করতেই সমবেত প্রতিবাদী তরুণরা চিত্কার করে প্রতিবাদ জানায়। তারা মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য না শুনে মুহুর্মুহু শ্লোগান দিতে শুরু করে। এতে তার বক্তব্য শোনা যায়নি। পরে মহিউদ্দিন চৌধুরী এলাকা ত্যাগ করেন।
