শিশুকণ্ঠেও একই ধ্বনি

রাজাকারের ফাঁসি চাই

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২৩:১৪
লাখো আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার অংশগ্রহণে গতকাল শাহবাগ স্কয়ার পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ছোট ছোট কাগজ বা কাপড়ের তৈরি লাল সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে বা বুকেপিঠে লাগিয়ে শুধু বড়রাই নয়, শিশুদের কণ্ঠেও ছিল অভিন্ন গগনবিদারী শ্লোগান—‘রাজাকারের ফাঁসি চাই, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই’। গতকাল সরকারি ছুটির দিনে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে নিয়ে শাহবাগের জনসমুদ্রে যোগ দেন বাঙালি জাতির গর্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিতে। সকাল থেকেই রাজধানী এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকঢোল নিয়ে খণ্ড-খণ্ড মিছিল করে বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। দুপুরেই জমায়েতের চৌহদ্দী ছাড়িয়ে যায় কাঁটাবন থেকে শিশুপার্ক, রূপসী বাংলা হোটেল থেকে টিএসসি পর্যন্ত। এ জনসমুদ্রে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। টেলিভিশনে শাহবাগের জনসমুদ্র দেখে অভিভাবক ছাড়াই ছোট ভাইকে নিয়ে জিঞ্জিরা থেকে চলে এসেছে জিঞ্জিরা পাইলট স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শায়ান। ইত্তেফাকের কাছে তার প্রতিক্রিয়া ছিল এই রকম, ‘টেলিভিশনে দেখলাম রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে সবাই এখানে বিক্ষোভ করছে। তাই খালাতো ভাইকে নিয়ে চলে এসেছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকব।’ এখানে কেন এসেছ? এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে, ‘সবাই রাজাকারদের শাস্তি চায়। এটা দেখে আমারো ইচ্ছা করল, তাই আসলাম।’ যুদ্ধাপরাধীদের কথা কার কাছে শুনেছ?—জানতে চাইলে শায়ানের জবাব, ‘স্কুলের সমাজ বইয়ে পড়েছি মুক্তিযুদ্ধের কথা, রাজাকারদের কথাও পড়েছি। ওরা মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের ওপরে হামলা করেছে, হত্যা করেছে। আমিও রাজাকারের ফাঁসি চাই।’ শায়ানের সঙ্গে এসেছে তার খালাতো ভাই সারুলিয়া আইডিয়াল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইম। তার গালে ছিল জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ আল্পনা। কেরানীগঞ্জ থেকে ব্যবসায়ী বাবা আক্কাসের সঙ্গে শাহবাগে এসেছে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নার্সারি শ্রেণির ছাত্র সাব্বির আহমেদ জয়। তার মাথায় বাঁধা কাপড়ে লেখা ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই’। আক্কাস বলেন, ‘টেলিভিশনে বিক্ষোভের খবর দেখে বাচ্চারাও এখানে আসতে চায়। আমিও আপত্তি করিনি। দেশের ইতিহাস তাদেরও জানা উচিত।’ মহাসমাবেশস্থলে কথা হয় মিরপুরের এক মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে। আর চাকরিজীবী বাবা মহসীনের সঙ্গে বিক্ষোভে এসেছে সাড়ে তিন বছর বয়সের নিশাদ মহসীন লিয়ানা। উত্সুক দৃষ্টিতে তারা সবকিছু শুধু দেখছেই না, শ্লোগানও দিচ্ছে। মা জোবায়দার সঙ্গে শাহবাগে এসেছে পাঁচ বছরের শিশু শাওন। মা জোবায়দা শিশু শাওনকে বলছে, ‘এরা তোমার আংকেল। রাজাকার কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে সবাই আন্দোলন করছে। আমরাও একই দাবিতে এসেছি।’ এরপর হাজারো কণ্ঠের সঙ্গে রাজাকারের ফাঁসি দাবির শ্লোগানে অংশ নেয় শাওনও।