আমাদের দেশে সারা বছর ধরে বাজারে শসা পাওয়া গেলেও এটি সারা বছর ধরে উত্পাদন করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে শসার চাষ করা হয়। শীতের মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের সবজি উত্পন্ন হয়ে থাকে। যেমন টমেটো, আলু, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, শালগম, শসাসহ আরো অনেক সবজি। শীতকালে প্রচুর পরিমাণে সবজি উত্পন্ন হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় সবজির দাম একেবারে কমে যায়। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। সম্প্রতি বেশ কিছু কৃষক অফ সিজনে সবজি উত্পাদন করে লাভের মুখ দেখছেন। এর মধ্যে শসা অন্যতম। দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা এব্যাপারে এগিয়ে এসেছেন। জুলাই মাসের পর বাজারে শসা পাওয়া যায় না। এ সময় বাজারে শসা পাওয়া গেলে ও দাম থাকে বেশ চড়া। এসময় শসা উত্পাদনের জন্য মালচিং ফিল্ম পেপার পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে শসা চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। অত্যাধুনিক পদ্ধতি মালচিং ফিল্ম পেপার এবং জালের মাধ্যমে মাচা তৈরি করে একবিঘা জমিতে শসা চাষ করতে ৩৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে। প্রতি বিঘা জমিতে ২৫০০ শসার গাছ লাগানো যায়। প্রতিটি শসা গাছে দুই থেকে আড়াই কেজি ফলন আসে। ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মণ দরে শসা বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিবিঘা জমিতে ১৩০ মণ শসা উত্পন্ন হয়। খরচ বাদ দিয়ে ৬০ হাজার টাকা লাভ সম্ভব হয়। এই ফলন পেতে সময় লাগে ৭০ দিন। এই পদ্ধতিতে উত্পাদিত শসার মানও বেশ ভালো হয়। উচ্চ মূল্যে শসা বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষকরা অফসিজনে শসা চাষের ব্যাপারে এগিয়ে আসছে। মালচিং ফিল্ম পেপার পদ্ধতি এবং নেটের মাচা একবার তৈরি করলে তা তিন-চার বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। এই পদ্ধতিতে লাউ, চিচিংগা, টমেটো বা অন্যান্য সবজি চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। এই পদ্ধতি ব্যবহার করার সময় সবজি খেতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
