কাদের মোল্লাসহ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির আন্দোলনের রেশ কারাগারগুলোতে পৌঁছেছে। শাহবাগের সুরে সুর মিলিয়ে বন্দিরা বলছেন ‘তুই রাজাকার, তুই রাজাকার’। আর এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন ঢাকা, কাশিমপুর, গাজীপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ। এসব কারাগারে রয়েছেন যুদ্ধাপরাধ মামলার গ্রেফতার হওয়া আসামিরা। ফলে শাহবাগের আন্দোলনের শুরুর পর থেকে এসব আসামিদের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। স্বজনদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের ব্যাপারে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। কারা সূত্র জানায়, কাশিমপুর-২ কারাগার (ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পাট-২) রয়েছেন যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামি জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা (যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি) মোঃ কামারুজ্জামান ও মীর কাশেম আলী। কিন্তু শাহবাগের আন্দোলনের পর থেকে সাধারণ বন্দিরা এদের দেখলেই ‘তুই রাজাকার, তুই রাজাকার বলে চিত্কার শুরু করে। এ অবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিদের আলাদা রাখা ও নিরাপত্তা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এ অবস্থা বিরাজ করছে ঢাকা, কাশিমপুর-১ ও গাজীপুর কারাগারে।
কাশিমপুর-২ কারাগারের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধাপরাধ মামলায় কাদের মোল্লা গ্রেফতার হন ২০১১ সালের ১৯ জুলাই। গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে রাখা হয় ঢাকা কেন্দ ীয় কারাগারে। একই বছর ২৪ জুন তাকে স্থানান্তর করা হয় কাশিমপুর-২ কারাগারে। প্রায় একই সময় ঢাকা কেন্দ ীয় কারাগার থেকে আনা হয় মোঃ কামরুজ্জামান ও মীর কাশেম আলীকে। তারা তিনজনই ডিভিশন প্রাপ্ত বন্দি। তিনজনকে রাখা হয় সুরমা সেলে। কিন্তু গত ৭ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজা হয়। এরপর থেকে তার ডিভিশন বাতিল করে সাধারণ সেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে রাখা হয়েছে ষাল সেলে। পরানো হয়েছে কয়েদির পোশাক। কারা চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে তাকে মালির কাজ দেয়া হয়েছে। ষাট সেলের সামনের ফুলের বাগান দেখভাল করবেন।
কাশিমপুরের-২ কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ চন্দ্র ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাজা হওয়ার পর কারাগারের নিয়ম অনুয়ায়ী কাদের মোল্লাকে কয়েদির পোশাক পরিয়ে সাধারণ সেলে রাখা হয়েছে। রায়ের আগে ডিভিশন পাওয়া বন্দি হিসেবে খাট, লেপ-তোষক, চেয়ার-টেবিল, একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা পেতেন। এছাড়া চিকন চালের ভাত, মাছ ও মাংসও তখন সরবরাহ করা হত তাকে। এ সুযোগ তিনি আর পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধ মামলার অপর দুই আসামির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী আছেন ঢাকা কেন্দ ীয় কারাগারে, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, আবু তাহেরসহ তিনজন রয়েছেন কাশিমপুর-১ কারাগারে। আর মতিউর রহমান নিজামী রয়েছেন গাজীপুর কারাগারে।
