প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশ প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বই প্রকাশের জন্য সবেচেয়ে বেশি সমাদৃত। এ প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু নেই। তিনি আছেন, থাকবেন। আমরা মনে করছি না তিনি নেই। দীর্ঘকাল তিনি তার বইয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে থাকবেন। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ আর দুইদিন পরই মেলায় আসছে।
তিনি বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলার সাথে বাঙালির আবেগ অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। কোনো দেশে শুধু বই নিয়ে দীর্ঘ একটি মাস উত্সব হয়, এ রকম বিরল ঘটনা বিশ্বে কমই আছে। এই মেলা আমাদের প্রাণের মেলা, জ্ঞানের মেলা। মেলার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর গ্রহণযোগ্যতা যেমন বেড়েছে কয়েকগুণ, তেমনি দিন দিন পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে। শুধু প্রকাশকদের নিয়ে এবারে বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা খুব ভালো উদ্যোগ। বাংলা একাডেমীকে সাধুবাদ জানাই। এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবে সবসময় বলে আমরা আশা করি। পাইরেটেড বইয়ে দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে, এটাও প্রকৃত প্রকাশকদের জন্য আশীর্বাদ। এবারের মেলা প্রকৃত অর্থে সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।
মাজহারুল ইসলাম বলেন, বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে অন্যপ্রকাশ। বড় পরিবেশে খোলা আকাশের নিচে মেলার আনন্দ অন্যরকম। তিনি বলেন, বইমেলার জায়গা স্বল্পতার জন্য আমাদের সব ধরনের বই ঠিকভাবে প্রদর্শন করতে পারি না। পাঠক বই হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে তাদের পছন্দের বই কিনবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মেলার পরিসর ছোট হওয়ায় পাঠকরা স্টলের সামনে বেশি সময় দাঁড়াতে পারেন না। এ সমস্যাটি দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এখন প্যাভিলিয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। মাজহারুল ইসলাম জানান, দেয়াল ছাড়াও হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আরও বেশ কয়েকটি বই মেলায় পাওয়া যাবে তবে সেগুলো সংকলিত-সম্পাদিত বই। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘ভ্রমণসমগ্র’, ‘রচনাবলী সপ্তম খণ্ড’, ‘হিমু-৯’, ‘নির্বাচিত মিসির আলি’, ‘উত্সর্গ’, ‘লীলাবতীর মৃত্যু’। মেলায় এসেছে হুমায়ূন আহমেদের দুইটি উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ ‘লিঙ্গারিং লুক এট ডেজ্ গোন বাই’ ও ‘হু স্পিক’ নামে দুইটি বই। মেলার প্রথম দিনে প্রকাশ হয়েছে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সম্পাদিত ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মারক গ্রন্থ’, হুুমায়ূন আহমেদের ‘হিজিবিজি’। মেলায় এসেছে পূরবী বসুর ‘নিউইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের চিকিত্সা ও অন্যান্য’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘ক্ষুধাবৃত্তান্ত’ ও ‘উপন্যাস সমগ্র ১১’, আবদুশ শাকুরের ‘রবীন্দ্রজীবনের অনুজ্জ্বল অঞ্চল’, সুমন্ত আসলামের ‘নিনির সবুজ জ্যোত্স্না’ ও ‘মহাবিপদে পাঁচ গোয়েন্দা’, আন্দালিব রাশদীর ‘অধরা’ ইত্যাদি।
