সরকারকে অনতিবিলম্বে আইন পরিবর্তন করে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবনের দেয়া রায় পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের আহবায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন, এই রায়ের ফলে দেশের স্বাধীনতার চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। জাতির জন্য তৈরি করা হয়েছে মহাসংকট।
গতকাল শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মাজহারুল হক বাকী, আবদুর রাজ্জাক ও আবদুর রউফ-এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
বর্তমান অবস্থায় জাতি আজ গভীর সংকটে নিমজ্জিত উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, যে পাখি খাঁচা থেকে উড়ে গেল তার ফাঁসির রায় হলো, আর যে পাখি খাঁচায় বন্দি তার যাবজ্জীবন রায় হলো।
তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখন সময় এসেছে সতর্ক হওয়ার। সত্যকে অনুধাবন করতে হবে বাস্তবতা দিয়ে। এখন আমার বিশ্বাস জন্মেছে, নতুন প্রজন্মের নতুন অভ্যুত্থান দেখে যেতে পারবো। শাহবাগে তরুণ প্রজন্ম নতুন প্রজন্মের সূচনা করেছে। আজ রাজনীতি করতে মেধা লাগে না, ত্যাগ লাগে না, মননশীলতা লাগে না। শুধু একটি জিনিস লাগে তাহলো স্তাবকতা আর ব্যক্তিগত আনুগত্য। সময় শেষ হওয়ার আগে সজ্ঞানে ফিরে আসুন। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার ত্বরান্বিত করুন। এটাকে নির্বাচনী এজেন্ডা বানাতে গিয়ে নিজেও ফাঁদে পড়েছেন, জাতিকেও বিভ্রান্ত করছেন। আওয়ামী লীগ আজ কমিউনিস্টপন্থি হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন খালেদ মোহাম্মদ আলী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুধীর কুমার হাজরা, মাহমুদুর রহমান মান্না, নূরুল ফজল বুলবুল, এমএ রশীদ প্রমুখ।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ’৫২, ৬৯ ও ৭১’এ তারুণ্যের যে উচ্ছ্বাস দেখেছি শাহবাগের গণজোয়ারে তা দেখছি। রক্তের উত্তরসূরী দিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা হয় না। আজ আমরা কি দেখছি? পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, হলমার্কসহ আরো কত কেলেঙ্কারি। এসব বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরসূরীর ব্যর্থতা।
মাহমুদুর রহমান মান্না সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসি হলে কাদের মোল্লার ফাঁসি হলো না কেন? কি করে একটা দুর্বল মামলা করা হলো? তিনি বলেন, জামায়াত সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। তাহলে কেন জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা করা হলো না? এসব নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকার কোন কথা বলছে না। এখন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হবে শাহবাগের গণজোয়ারকে বিপথগামী করার। সেজন্য আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারক স্কাইপি কেলেঙ্কারির পর পদত্যাগ করেছেন। আরেকজন সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন সরকারকে এর জবাব দিতে হবে।
