এসএমই ফাউন্ডেশন নারী উদ্যোক্তাদের কাজে উত্সাহ প্রদানের পাশাপাশি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে। এবছর এসএমই ফাউন্ডেশন ৩ জন নারী উদ্যোক্তাকে পুরস্কার দিয়েছে এবং বিবি রাসেলকে আজীবন সম্মাননা দিয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত
এই তিন নারী উদ্যোক্তা এবং বিবি রাসেলকে নিয়ে আমাদের এই প্রতিবেদন—
বর্ষ সে রা
মা ঝা রি না রী উ দ্যো ক্তা
গুলসানা আলী
চট্টগ্রাম
আমার বাবা ছিলেন একজন চাকরিজীবী। বাবা-মা ও আত্মীয় পরিজনের আদরে নির্বিঘ্নেই কেটেছে আমার শৈশব ও কৈশোর। স্নাতক পাস করার পর আমার বিয়ে হয়। সময়ের আবর্তে আমাদের কোলজুড়ে আসে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। ওরা বড় হতে থাকে। সংসারের হাজারো ব্যস্ততা আমাকে ঘিরে থাকলেও স্বাধীনভাবে কোন কিছু করার ইচ্ছা সব সময়ই আমাকে তাড়িয়ে বেড়াত। ছেলে-মেয়েরা যখন স্কুলে যেতে শুরু করল তখন আমি স্বাধীনভাবে কিছু করার চিন্তা বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়ে গেলাম।
১৯৯০ আমরা তিন বান্ধবী মিলে একটি রেডিমেট কাপড়ের ব্যবসা শুরু করলাম। বান্ধবীরা মিলে দোকানের নাম দিলাম ‘মহুয়া’। বেশ ভালই চলছিল আমাদের ব্যবসা। কিন্তু একাধিক দুর্ঘটনার কারণে বেশিদিন চলতে পারেনি আমাদের ‘মহুয়া’। পরপর দুইবার চুরি হয় দোকানটিতে। উত্সাহ হারায় আমার বান্ধবীরা। আবার আমি একা। এরপর আবার নতুন করে স্বপ্ন বোনা শুরু করি। আরেক বান্ধবীর সাথে যৌথভাবে একটি রান্না বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান কেন্দ্র চালু করি। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছিল দুইটি সেকশন- চাইনিজ ও বেকিং। আমার বান্ধবী শিখাতো হরেক রকমের চাইনিজ রেসিপি আর আমি শিখাতাম কেক, বিস্কিট, পাউরুটি ইত্যাদি। পাশাপাশি স্থানীয় একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিয়মিত টিফিন সরবরাহের সুযোগটিও পেয়ে যাই। কিন্তু প্রায়শই মনে হতো এ কাজগুলো স্থায়ী নয়। তাই স্থায়ীভাবে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর অদম্য ইচ্ছা আমাকে পেয়ে বসে।
১৯৯৩ সালে একটি রেস্টুরেন্ট চালু করি। ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়ায় ব্যবসা সম্প্রসারণ করি। ২০০৮ সালে আমার স্বামী একটি মার্কেট তৈরি করেন। আমি সেই মার্কেটের দোতলায় আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি রেস্টুরেন্ট শুরু করি। আমি রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি একই বিল্ডিং-এ ৩০০-৩৫০ জন লোক বসার ব্যবস্থা উপযোগী একটি কনভেনশন হলও চালাই। বর্তমানে আমার প্রতিষ্ঠানে ৫০-৬০ জন কর্মচারী কাজের সুযোগ পাচ্ছে। আমি কর্মচারীদের বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া, বাসস্থান ও চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছি। আমি ঢাকাস্থ যমুনা ফিউচার পার্কে একটি ফুড কোর্ট চালু করছি এবং লন্ডনে তাবা’র আরো একটি ব্রাঞ্চ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।
---
বর্ষ সে রা
ক্ষু দ্র না রী উ দ্যো ক্তা
দেলুয়ারা বেগম
দিপ্ত কুটির, জামালপুর
ব্রক্ষ্মপুত্র নদ আর যমুনা বিধৌত, আমজাদ হোসেনের সেই ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’— ছায়াছবির ঘটনাস্থল, চরভাঙ্গা অসহায় মানুষের ঠিকানা জামালপুর; তারই মাঝে আশার আলো জ্বালিয়ে শহরে স্থান করে নিয়েছে দিপ্ত কুটির নামের আরেক ব্যতিক্রমী ঠিকানা। যদিও, ভাওয়াল গড়ের আশীর্বাদে ভরপুর, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের স্মৃতিবিজড়িত সবুজ-শ্যামল এক ঐতিহাসিক জেলা শহর ময়মনসিংহে আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। আমি এই শহরের হাজারো মেয়ের সন্তানের মধ্যে একজন, অত্যন্ত সাধারণ পরিবারেরই বলতে হবে।
ময়মনসিংহ শহরে আমার শিশুকাল, বাল্য, কৈশোর কেটেছে মা-বাবার একান্ত সান্নিধ্যে। জীবনের শুরুটা মুসলিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে, এখানেই আমার মাধ্যমিক স্তর এবং পরে মুমিন্নুননিসা মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষালাভ। তখন, ১৯৯০ সালের ২৩ ডিসেন্বর, আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সরকারি চাকুরে স্বামীর সাথে আমার সংসার জীবনের যাত্রা, আর চলে যেতে হয় ঢাকায়। এই সময় আমার দুই সন্তান জন্মগ্রহণ করে। স্বামীর উপার্জনের টাকায় সংসার চালাতে তখন বেশ হিমশিম খেতে হয় আমাকে। কষ্ট হতো। বলা যায়, অনেক ভেবে-চিন্তেও আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে কিংবা অভাব তাড়াতে আমি তেমন কোন সুনির্দ্দিষ্ট উপায় খুঁজে পাইনি। কেবলই মনে হতো, স্বামীর চাকরির পাশাপাশি আমারও একটা কাজ করা দরকার। মনে পড়ে, ২০০০ সালে জামালপুর ফিরে আসার পর ঢাকায় থাকাকালে যে প্রশিক্ষণটুকু আমি নিতে পেরেছিলাম, তা অন্যদের মাঝে দেয়া শুরু করি। দিন যায় আর সাড়া পড়ে, আমার চাহিদাও বাড়তে থাকে, উত্সাহ পাই, আশান্বিত হই বহুগুণে। একবছর পার হয় এভাবে। হাল ছাড়িনি, হাতের কাজের ট্রেনিং দিতে দিতে আমার অভিজ্ঞতাও পূর্ণতা পেতে থাকে। ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত আমি স্থানীয়ভাবে মহিলাদেরকে সেলাই, কাপড় কাটা, পোশাক তৈরি, ডিজাইন, রং করা, বাটিক ও বুটিকের প্রশিক্ষণ দিয়েছি অবিরাম। এ থেকে প্রাপ্ত টাকা জমিয়ে জমিয়ে এরই মাঝে সুযোগ খুঁজেছি নিজে ব্যবসা শুরু করার।
২০০৫ সালে আমার কাছে ট্রেনিং নেয়া এবং সম্পূর্ণ নতুন মিলিয়ে ২০ জন মহিলার সাথে পৃথকভাবে এবং একত্রে কথা বলি, জানাই আমার পরিকল্পনার কথা। তারাও সেদিন আমাকে সহযোগিতা করেছে, সম্মতি দিয়ে সামনে চলার সাহস জুগিয়েছিল। ব্যবসা শুরু করি। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে আমি জীবনের আর এক নতুন পথে যাত্রা করি। মানসম্মত, রুচিশীল পণ্য তৈরি করেই আমি অন্যদের চেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করি। দিপ্ত কুটির নামের আমার এই প্রতিষ্ঠান মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। আমার সাথে কাজ করে কয়েক’শ অসহায় নারী জীবিকার সন্ধান পেয়েছে। এটিই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া, আনন্দ আর সুখ।
----
বর্ষ সে রা
মা ই ক্রো না রী উ দ্যো ক্তা
শেখ নীলা
এস.এন ফ্যাশান, রাজশাহী
আমার প্রতিষ্ঠানের নাম এস.এন. ফ্যাশান। ২০০০ সাল থেকে আমি ব্যবসার সাথে জড়িত। আমার বাবাও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর গার্মেন্টস্ ব্যবসা ছিলো। সেখানে কেবলই ছেলেদের অর্থাত্ পুরুষের আইটেমের পোশাক তৈরি করা হতো এবং সেগুলো পাইকারী বিক্রি হতো। এক পর্যায়ে ওই ব্যবসায় অনেক টাকা আটকা পড়ে যাওয়ার কারণে বাবার ব্যবসার বড় ধরনের লস হয়। সেই সময় নিজের কাছে খুব খারাপ লাগতো এই ভেবে যে, আমি যদি সংসারের জন্য কিছু করতে পারতাম। তখন ১৯৯৬ সাল, আমি এসএসসি পরীক্ষা দেই। পরীক্ষার পর যে তিন মাস রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করবো, তার মধ্যে আমি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে ভর্তি হই সেলাই শেখার জন্য। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর সে সময় সকালে দুই ঘণ্টা কাজের ফাঁকে লেখাপড়া করতাম। স্কুলের স্থানীয় কর্মজীবীদের সন্তানদের পড়িয়ে পরে কলেজে যেতাম। কলেজ থেকে বের হয়ে যেতাম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে, বুটিক-বাটিকের কাজ শিখতে। এর ফলে, সকালে বের হয়ে কাজ শেষে বাসায় ফিরতে আমার সন্ধ্যা হয়ে যেতো। সেজন্য, এলাকায় অনেক লোক অনেক সময় খারাপ মন্তব্য করতো আমাকে নিয়ে। কিন্তু সংসারের প্রয়োজন আর অভাবের কষ্ট উপলব্ধি করে আমি থেমে যাইনি।
আমি এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হলাম। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি এস, এন, (শেখ নীলা) ফ্যাশান নামে একটি টেইলার্সের দোকান দিই। আমার দোকানটি খুব ভালো চলতে লাগলো। পড়াশোনা এবং দোকান চালানোর পাশাপাশি আমি পোশাক তৈরিতে কাজে লাগে এমন আরও অন্যান্য ট্রেনিং নিতে থাকি। আমার দোকান দিতে এবং রাজশাহীর বাইরে অন্যান্য জায়গায় বিভিন্ন ট্রেনিং নিতে যুব উন্নয়নের বিভাগীয় কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আমার কাজের আগ্রহ দেখে তিনি আমাকে অনেক উত্সাহ দিতেন, বিভিন্ন কাজের ট্রেনিংও দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আমার বিয়ে হয় পাশের এলাকার এক ছেলের সঙ্গে। স্বামী রাজশাহী সিল্ক শাড়ির ব্যবসা করতেন। আগে শুধু রাজশাহীতে ব্যবসা করতাম কিন্তুু মেলায় অংশগ্রহণ করার পর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ফ্যাশান হাউসগুলোর সাথে পরিচয় ঘটে এবং তারা আমার তৈরি পণ্যের অর্ডার দিতে থাকে। অতীতে চলার পথে পদে পদে পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন বাধা এসেছে, সে বাধা অতিক্রম করে ব্যবসা ধরে রাখতে পেরেছি।
আমার দৃঢ়বিশ্বাস, সত্ উদ্দেশ্যে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সফল হওয়া সম্ভব। আমার সবচেয়ে ভালো লাগে, যারা আমাকে নিয়ে একসময় বিরূপ মন্তব্য করেছে- তাদের পরিবারের মানুষও আমার প্রতিষ্ঠানে এখন কাজ করে। জীবনে অনেক কষ্ট আর সংগ্রাম করে আমি এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি। আজ আমার বাবা বেঁচে নেই। তিনি থাকলে নিঃসন্দেহে খুব খুশী হতেন।
---
আজীবন সম্মাননা
বিবি রাসেল
ফ্যাশান জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম
শিল্প ও নকশার মধ্য দিয়ে বাংলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ, বৈচিত্র্য আর সৃজনশীলতার প্রসার ঘটানো যার নেশা আর শখ, গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যার নিঃশ্বাসে-বিশ্বাসে মিশে গেছে, নারী শক্তিকে জাগিয়ে তোলার চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে যার অক্লান্ত ছুটে চলা, সেই ‘আইকনের’ নাম বিবি রাসেল। ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিবি। শৈশবের লেখাপড়া ঢাকায় কামরুন্নেছা স্কুল, এরপর হোম ইকোনমিক্স কলেজ, তারপরই (লন্ডন) বিলেতে গ্রাজুয়েশন করতে যাওয়া। সেদিনের সেই বিবি নামের ‘বিলেত ফেরত’ বাংলার মেয়েটি দেশে ফিরে এসে ‘বিবি রাসেল’ আর বিবি প্রডাকশন পরিচিতিতে আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় সাড়া ফেলবে- কে জানতো। বাবা চাইতেন বিবি সাংবাদিক হোক তার মেয়ে। কিন্তু গ্রামের মানুষের পরণে বাহারি ডিজাইনের লুঙ্গি পরা দেখতে দেখতে বিবির নিজের মধ্যে ডিজাইনার হওয়ার একটা বাসনা জেগেছিল। ফ্যাশান ডিজাইনের প্রতি এই অদম্য আকর্ষণের পূর্ণতা দিতেই হয়তো তিনি লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশনে ভর্তি হন। ওই কলেজে তিনিই ছিলেন প্রথম বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।
১৯৭৫ সালে গ্রাজুয়েশন শোতে নিজের কল্পনায় করা ১০টি নতুন ডিজাইনের পোশাক প্রদর্শন করেন বিবি। সেই থেকে নামকরা বিভিন্ন ম্যাগাজিনের ফ্যাশান মডেলসহ ২০ বছর কাজ করেন পৃথিবীর সব নামি-দামি ফ্যাশান ডিজাইনারদের সাথে। বিবি রাসেলের কাছে ফ্যাশান এবং কালচার একই সঙ্গে জরুরি।
১৯৯৫ সালে বিবি প্রোডাকশনের আবির্ভাব এই বিবি রাসেলের হাতে। ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনেস্কো ও ব্রিটিশ ফ্যাশন কাউন্সিলের সহযোগিতায় আয়োজিত হয় ‘ষ্টারস অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে বিবির তৃতীয় প্রদর্শনী। ২০০৮ সালে বিশ্বসেরা আটটি ব্র্যান্ড আরমানি, ভেলেন্তিও, পলস্মিথ, কেলভিন ক্লেইন, হুগো বস, ম্যাক্স মারা ও লরেন ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ‘বিবি রাসেল নামের ব্র্যান্ড’ও চালু হয়েছে ইউরোপিয়ানদের আগ্রহ এবং অর্থায়নে। বাংলার এক অদম্য নারীর এ এক পরম তৃপ্তির সংবাদ আমাদেরকে গর্বিত করে, সাহস আর উত্সাহ জোগায় বিশ্ব দরবারে শির উঁচু করে দাঁড়াবার।
১৯৯৭ সালে এলে ম্যাগাজিন তাকে ‘উইমেন অব দি ইয়ার’ ঘোষণা করে। ১৯৯৯ সালে লন্ডন ইনস্টিটিউট তাকে সম্মানজনক ফেলোশিপ দিয়েছে। একই বছর ‘বছরের সেরা নারী উদ্যোক্তা’ হিসেবে ঘোষণা করে ফাউন্ডেশন অব এন্টারপ্রেরর উইমেন। এছাড়াও বিবি রাসেল বাংলা একাডেমীর সম্মানিত ফেলো, জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কম্বোডিয়ায় এইচআইভি পজিটিভ নারীদের সঙ্গে এবং স্পেনে কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী নারীদের সঙ্গে নিয়ে ‘ফ্যাশান ফর ডেভেলপমেন্ট’ থিমে কাজ করেছেন। ২০১১-তে নিউইয়র্ক থিওলজ্যিক্যাল সেমিনারি থেকে ‘আরবান এঞ্জেল অ্যাওয়ার্ড’ এবং জার্মানির ভিশন সামিট থেকে ‘ভিশন অ্যাওয়ার্ড-২০১১’ পান বিবি রাসেল।
বিবি রাসেল বলেছেন, ‘কম্বোডিয়ায় ১৩ দিন ছিলাম। এই অল্প সময়ে তাদের জন্য ‘বিবি ফর কম্বোডিয়া’ নামে একটি সম্পূর্ণ কালেকশন করে দিয়েছি। আমার জীবনে এত কম সময়ে কোন ডিজাইন করতে পারিনি। এটা পেরেছি ওদের চোখের দিকে তাকিয়ে। এইচআইভি পজিটিভ হয়েও তাদের চোখে হতাশের কোন ছায়া ছিল না। যে ক’দিন বাঁচবে ভালভাবে বাঁচতে চায়। জীবনকে উপভোগ করতে চায়। তাদের এই ইচ্ছায় যেন আমার সেরা কাজটি আদায় করে নিয়েছে।’ নতুন প্রজন্মের তরুণ ফ্যাশান ডিজাইনারদের ফ্যাশন নিয়ে বিবি রাসেল স্বপ্ন দেখেন। তিনি চান, তরুণ প্রজন্ম বেশি বেশি পড়াশোনা করে তাদের একটা নিজস্বতা তৈরি করা উচিত।
তাঁর ডিজাইন করা সব পোশাকের উপাদানই দেশীয়। বিবির দৃঢ়বিশ্বাস, আগামী প্রজন্মে যারা তাঁতের কাজ করবেন তারা নিরক্ষর থাকবেন না। দেশের লাখ লাখ তাঁতী পরিবারের কাছে পৌঁছাতে চান বিবি রাসেল। বিবির উপলব্ধি- ইউরোপ তাকে খ্যাতি দিয়েছে, পরিচিতি দিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের দরিদ্র তাঁতীরা তাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে তা অমূল্য, অতুলনীয়। নিজের জীবনের সব সাফল্যকেই উত্সর্গ করতে চান এই দেশের মানুষের জন্য। আর সেজন্যই বোধ হয় তাঁর মাকে তিনি বলেছিলেন ‘অনুমতি দিয়ে যাও মা, আমি মরে গেলে যেন তাঁতী পাড়ায় আমাকে মাটি দেওয়া হয়’।
