সেভ দ্য চিলড্রেন পূর্বে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তেমন কাজ করেনি। ২০১১ সালে জি.সি.পি-এর সদস্য হিসাবে লন্ডনে জি.সি.পি’র সভায় আমি প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি আলোচনা করি। ২০১৩ সাল থেকে তারা বিশ্বব্যাপী এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন। আমি নিজে গর্ববোধ করি যে আজ সেভ প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সেভ-এ সকল শিশুকে একই দৃষ্টিতে দেখা হয়। তাই আনন্দ পাই এখানে কাজ করে। সেভ একটি শিশুবান্ধব সংগঠন। তারা শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে ও মূল্য দেয়। তাই সেভকে বলা হয় শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করার এক নম্বর সংগঠন। আমি আনিলা ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য। এনসিটিএফ শিশুদের দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত জাতীয় পর্যায়ের একটি শিশু সংগঠন, যা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের আলোকে বাংলাদেশে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা, সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। সেভ দ্য চিলড্রেন এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সহযোগিতায় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই পরিচালিত হচ্ছে এনসিটিএফ-এর কার্যক্রম। এনসিটিএফ শিশু অধিকারের কথা বলার একটি প্লাটফর্ম। এনসিটিএফ স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে সকল শ্রেণির শিশুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে ও তাদের পক্ষে কথা বলে। বাংলাদেশে সকল সেভ দ্য চিলড্রেন একত্রিকৃত হবার পূর্বে প্রত্যেকেরই পৃথক পৃথক শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথক শিশু গ্রুপ ছিল; যেমন- ন্যাশনাল চিল্ড্রেন প্যানেল (এনসিপি), ন্যাশনাল চিল্ড্রেন টাস্কফোর্স এবং চাইল্ড প্রোটেকশন মুভমেন্ট। কিন্তু সকল সেভ দ্য চিল্ড্রেন একত্রিত হওয়ায় ভিন্ন ভিন্ন শিশু গ্রুপগুলো এক হয়ে যায়, যার নাম হয় এনসিটিএফ। আমি নিজেও ছিলাম এনসিপি’র সদস্য। বর্তমানে আমরা সবাই এনসিটিএফ-এর সদস্য। বিগত ২২-২৪ জানুয়ারি ২০১৩ এনসিটিএফ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং চাইল্ড পার্লামেন্টের (চাইল্ড পার্লামেন্ট এনসিটিএফ-এর এ্যাডভোকেসি গ্রুপ) ২০জন সদস্য একত্রিত হয়ে জাতিসংঘে প্রেরিত বাংলাদেশ সরকারের শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রিপোর্ট (৫ম পিরিয়ডিক রিপোর্ট) পর্যালোচনা করি। উল্লেখিত সেশনের আলোচ্য বিষয়সমূহ ছিল- শিক্ষা, শিক্ষা উপকরণ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শারীরিক শাস্তি, সহমর্মিতা, জন্ম নিবন্ধন, কিশোর-কিশোরীর যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার, মাদকাশক্তি, শিশু পাচার, ওষুধ ও পথশিশু। আলোচনা শেষে আমরাও আমাদের সুপারিশ ও মতামত জাতিসংঘে প্রেরণের জন্য তৈরি করি। এছাড়াও সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয় যে, ভবিষ্যতে শিশু বিষয়ক কোন পরিকল্পনা গ্রহণের পূর্বে যেন শিশুদের কথা শুনে করা হয়।
