কক্সবাজারের উখিয়ায় চলতি মৌসুমে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আবাদকৃত শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। সবুজে সবুজে ভরে গেছে উপজেলার সব ফসলী মাঠ। কৃষকরা ফসল উত্তোলন ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ মৌসুমে প্রায় ৫ কোটি টাকার সবজি উত্পাদন হবে বলে দাবি করেছে উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা বছরই শাক-সবজির চাহিদা থাকায় ও বাজারে ভাল দাম পেয়ে কৃষক ও বিভিন্ন পেশার লোকজন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৮শ ৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষাবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ইউসুফ ভুঁইয়া জানান, রোগ বালাই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে বেগুন, আলু, মরিচ, মুলা, টমেটো, লাল শাক, শিম, বরবটি, ফেলন, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, কুমড়া, খিরা বিক্রি করে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় করবে কৃষক।
রাজাপালং ইউনিয়নের জাদিমুরা ও খয়রাতি এলাকার সবজি চাষী আব্দুর রহিম (৪৫), ওমর আলীসহ (৫২) অনেকেই জানান, তারা গত দুই বছর ধরে তাদের ধানি জমিতে খিরাসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করে আসছেন। তারা জানান, বোরো চাষাবাদের তুলনায় শাক-সবজি চাষাবাদ করে তারা বেশি লাভবান হয়েছেন। রত্নাপালং ইউনিয়নের চাকবৈটা গ্রামের হাজী ইয়াছিন আলী (৬০), মো: আনোয়ারুল ইসলাম (৪০) জানান, চলতি মৌসুমে তারা এক একর জমিতে আলু, বেগুন, মরিচ ও খিরা চাষাবাদ করেছেন। এ পর্যন্ত তারা শাক-সবজি বাজারজাত করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। তাদের মতে আরো প্রায় লক্ষাধিক টাকার সবজি বাজারজাত করার আশা করছেন তারা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক একর জমিতে বোরো চাষাবাদ থেকে উত্পাদন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। উত্পাদিত ধান, চাল বাজারে বিক্রি করে এই পরিমাণ টাকা পাওয়া যায় না। এভাবেই এলাকার অধিকাংশ প্রান্তিক, মাঝারি, ক্ষুদ্র ও বর্গাচাষীরা বিভিন্ন সবজি চাষাবাদের মাধ্যমে তাদের আত্মসামাজিক উন্নয়ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বদিউল আলম জানান, সবজি চাষাবাদের প্রতি স্থানীয় কৃষকরা ঝুঁকে পড়ার কারণে তারা মাঠ পর্যায়ে সবজি চাষাবাদ তদারকি করে বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তির ব্যাপারে কৃষকদের ধারণা দিচ্ছেন। পালংখালী ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন জানান, স্থানীয় অধিকাংশ কৃষক অশিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত হওয়ায় জমিতে জৈবিক সারের পরিবর্তে বিভিন্ন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ওষুধ সবজি চাষাবাদে অধিক মাত্রায় প্রয়োগ করার ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগবালাই দেখা যায়। এব্যাপারে কৃষকদের জৈবিক সার, গোবর ও অন্যান্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করছি।
