হাল ছাড়েননি জাকিরুল

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৬
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জাকিরুলের ডান পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এখন সে পঙ্গু, প্রতিবন্ধী। দুর্ঘটনা জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে জাকিরুলের। তবু হাল ছাড়েননি তিনি, সাহসে বুক বেঁধে নতুনভাবে জীবন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, অনেকটা সফলও হয়েছেন। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ওমর গ্রামের মেহের উদ্দিনের পুত্র জাকিরুল (৩২)। অভাবের সংসার হলেও কোনমতে কেটে যাচ্ছিল দিন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা পঙ্গু করে দিল জাকিরুলকে। ২০০৬ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর সিলেটের হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নষ্ট হয়ে যায় তার ডান পাটি। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে ২ বছর চিকিত্সা দেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডান পাটি আর রাখা যায়নি, কেটে ফেলতে হয় পুরোটাই। ২০০৪ সালে বিয়ে করেন জাকিরুল। সংসারে তার স্ত্রী ও ২ কন্যা সন্তান। যা ছিল সবই শেষ হয়ে গেছে তার চিকিত্সায়। বসতবাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। চলাফেরায় হুইল চেয়ারই ভরসা। এ অবস্থায় নিজেকে তিনি সমাজ-সংসারের বোঝা বলে মনে করতে থাকেন। ফুটফুটে মেয়ে দু’টির দিকে চেয়ে নতুনভাবে জীবন গড়ার তাগিদ অনুভব করেন তিনি। সমাজের বোঝা না হয়ে কিভাবে কাজ করে বেঁঁচে থাকা যায় সেই চিন্তা থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে প্লাষ্টিকের ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। দিনাজপুরের এক প্রতিবন্ধী লোকের কাছ থেকে গত বছর কয়েক দফায় ৪৫ দিন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন জাকিরুল। প্রশিক্ষণের পর থেকে বাড়িতে ব্যাগ বানানোর কার্যক্রম শুরু করেন। প্রাথমিক অবস্থায় ২ হাজার ৬শ টাকা দিয়ে প্লাষ্টিক ক্যান কিনে এনে ব্যাগ তৈরি করতে শুরু করেন। হুইল চেয়ারে গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রতিটি ব্যাগ ১শ থেকে ৩শ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি করেন তিনি। ব্যাগপ্রতি লাভ হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকা। জাকিরুল বলেন, স্থানীয় বাজারে ও বাইরে এ ব্যাগের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আর্থিক দৈন্যতার কারণে ঠিকমত ব্যাগ তৈরি করতে পারছেন না। নিজের শত অভাবের মাঝেও জাকিরুল অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকার ৩০ জন মহিলাকে ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন। আত্মপ্রত্যয়ী, পরোপকারী জাকিরুলকে নিয়ে গর্বিত এলাকার মানুষ।