সৃজনশীল ও মননশীল গ্রন্থের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্সের প্রকাশক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ জাকির হোসাইন বলেছেন, দেশের প্রকাশনা শিল্প অনেকটা এগিয়েছে। তবে এটাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে হলে এ শিল্পে পেশাদারিত্ব আনতে হবে। কেননা ঝকঝকে ছাপাই মুদ্রণের একমাত্র দিক নয়, নির্ভুল ও মানসম্পন্ন গ্রন্থ প্রকাশই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই প্রকাশনা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোর্স চালু করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
ইত্তেফাকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে জাকির হোসাইন বলেন, এই পেশায় পেশাদারিত্ব সৃষ্টিতে সহায়ক বাস্তবসম্মত উদ্যোগের অভাব রয়েছে। যেমন রয়েছে একাডেমিক পর্যায়ে, তেমনি গ্রন্থ উন্নয়ন পর্যায়েও। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যথার্থ কোনো প্রভাবই ফেলতে পারছে না পুস্তক প্রকাশনা শিল্প খাতে। এই শিল্পকে শক্ত ভিত্তি দিতে গেলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পাঠাভ্যাস সহায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রেও দরকার লেখক-প্রকাশক-মিডিয়া, সরকার ও পৃষ্ঠপোষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
এই প্রকাশক আরো বলেন, শিশুদের জন্য মানসম্পন্ন বইয়ের অভাব রয়েছে। এছাড়া যারা জনপ্রিয় লেখক তারা শিশুদের বইয়ের প্রতি নজর দেন না। বাঘ, ভালুক, গোয়েন্দা বইয়ের বাইরে আর কিছু ভাবেন না। পৃথিবী এগিয়ে গেছে কিন্তু লেখকরা শিশুদের বইয়ের ক্ষেত্রে এই ভাবনার বাইরে যেতে পারেন নি। তিনি বলেন, একুশে বইমেলাই দেশের প্রকাশনা শিল্পকে বেগবান করেছে। তবে বইমেলার পরিসর বাড়ানো উচিত। মেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেয়ার যে প্রস্তাব উঠেছে, তাতে তিনি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, এতে ঘুরে ঘুরে বই দেখার সুযোগ বাড়বে। তবে বড় পরিসর পেয়ে আবার যেন ভুঁইফোড় প্রকাশকরা মেলায় ভিড় না জমাতে পারে সেদিকেও খেলাল রাখতে হবে।
এবার মেলায় অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্স আনছে ৭০টি নতুন বই। এরই মধ্যে বের হয়েছে আনিসুজ্জামান সম্পাদিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জঙ্গম/বনফুল’ ও ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’, বুদ্ধদেব বসুর ‘তিথিডোর’ এবং সতীনাথ ভাদুড়ীর ‘ঢোঁড়াই চরিত মানস’, শিরিন আখতারের ‘নারী রাজনীতি ও রাষ্ট্র, আমজাদ হোসেনের ‘অবেলায় অসময়’, রবীন্দ নাথ ঠাকুরের ‘নাট্যচিন্তা’, মাহফুজ উল্লাহের ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন’, অধ্যাপক আবদুল মালেক নূরীর ‘সুফীবাদ’, উপেন্দ কিশোর রায় চৌধুরীর ‘কুঁজো বুড়ির কথা’ ও ‘টুনটুনির বুদ্ধি’, জয়নাল হোসেনের ‘মানবপুত্র গৌতম : ধর্ম ও জীবনাচার’, গাজী তানজিয়ার ‘বায়বীয় রঙ’, শাকিনা হাসীনের ‘পথিকৃত্ নারীবাদী : অলিম্পে দ্য গুজ’ প্রভৃতি গ্রন্থ।
