জীবন দিয়ে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৪
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের তরুণ প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে উঠেছে। আমি জীবন দিয়ে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের স্থান হবে না। শাহবাগ মোড়ে যে আন্দোলন চলছে তার স্মারকলিপি আমি পেয়েছি। আমি সংসদের পক্ষ থেকে তরুণ প্রজন্মকে অভিনন্দন জানাই। তাদেরকে আমি প্রাণভরে দোয়া করি। তিনি বলেন, আমারও মন চায় শাহবাগে ছুটে যেতে। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে শুরু হওয়া অনির্ধারিত আলোচনার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। মন্ত্রীসহ ৩২ জন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখার পর রাত ৮টা ১০ মিনিটে অধিবেশন পরিচালনা করার জন্য প্রবেশ করেন স্পিকার মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সংসদ নেতা শেখ হাসিনা একটানা ২৩ মিনিট বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, শাহবাগ হোটেল ছিলো বলে জায়গার নাম হয়েছে শাহবাগ মোড়। পাকিস্তানের গন্ধ রয়েছে এ নামে। এখন থেকে নাম হওয়া উচিত প্রজন্ম স্কোয়ার। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে মানুষ জেগে উঠেছে। আমার মৃত্যু হলেও শান্তি পাবো এ জন্য যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ ফিরে এসেছে। নতুন প্রজন্মকে অভিনন্দন জানাই। তিনি বলেন, তারা যে স্মারকলিপি দিয়েছে তার প্রতিটি শব্দ আমি পড়েছি। তাদেরকে বলতে চাই আমরা সংসদ থেকে তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার যাতে সুষ্ঠুভাবে চলে সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আইনে যদি কোন দুর্বলতা থাকে তা নিরসন করা হবে। সংসদ নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালের পর স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসিত করা হয়। জাতির জন্য কত বড় অবমাননা যে তাদের সামনে দিয়ে পরাজিতরা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে চলাফেরা করে। এখন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের তরুণ প্রজন্মরা জেগেছে। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। সংসদ নেতা বলেন, আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের বলতে চাই তোমরাই আগামী দিনের নেতৃত্বে দিবে। পড়াশোনা চালিয়ে যাও। তোমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছ তা বৃথা যাবে না। সংসদ নেতার বক্তব্য শেষে স্পিকার বলেন, শাহবাগ মোড়ে যে আন্দোলন চলছে তার প্রতি জাতীয় সংসদ একাত্মতা প্রকাশ করছে। যেহেতু কোন নোটিস দিয়ে এ আলোচনা হয়নি তাই কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। আগে থেকে নোটিস দিয়ে আলোচনা হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেত। প্রয়োজনে এ বিষয়ে নোটিস দিয়ে আগামীতে যে কোন দিন আলোচনা করা যাবে।