তিস্তা নিয়ে মমতার ধীরে চল নীতি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৫
তিস্তা নদীর ৩৫ শতাংশ পানি বাংলাদেশকে দেয়া যেতে পারে বলে তিস্তার পানি বন্টন সংক্রান্ত কমিশন প্রাথমিক প্রতিবেদনে মতামত দিলেও এ ব্যাপারে ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকার। জানা গেছে, দার্জিলিংয়ে গোলমালের কারণে এবং গোর্খাল্যান্ড ইস্যু নতুন করে মাথাচাড়া দেয়ায় তিস্তা ইস্যুতে এ নীতি গ্রহণ করেছেন তিনি। নিজের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে মমতা ব্যানার্জি তার এই মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। প্রয়োজনে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকেও তার এই মনোভাবের কথা জানাবেন এবং রাজ্য সরকারের বাজেট নিয়ে দরকষাকষি করবেন। বাংলাদেশকে তিস্তার কতটুকু পানি দেয়া যেতে- এ বিষয় খতিয়ে দেখতে ২০১১ সালের শেষ দিকে ড. কল্যাণ রুদ্রের নেতৃত্বে এক সদস্যের কমিটি গঠন করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। কয়েকদিন আগে কমিটি তার প্রাথমিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশকে ৩৫ শতাংশ পানি দেয়া সম্ভব। তবে নভেম্বর থেকে মে মাসে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কারণ ওই মওসুমে কোনো কোনো সময় তিস্তায় ৫২৯ কিউসেক (ঘনমিটার/প্রতি সেকেন্ডে) পানি প্রবাহিত হয়। এছাড়া বন্যার সময় তিস্তায় ১০ মিলিয়ন টন পলি জমে। ফলে নদীর নাব্যতা ক্রমেই কমছে। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বেশি পানি দিতে হলে শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রেখে কিংবা ড্রেজিং করে নদীর গভীরতা বাড়াতে হবে। বর্ষার পানি ধরে রাখতে হলে বেশ কিছু জলাধার নির্মাণ এবং সংযোগ খালের প্রয়োজন হবে। তবে এসব প্রকল্প খরচ সাপেক্ষ। খসড়া এই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভারতের পানি কমিশন থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলোর সবই পুরানো। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিস্তা চুক্তি করলে ভুল হবে। এজন্য সিকিম থেকে তিস্তা অববাহিকায় অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে কী পরিমাণ পানি পৌঁছায় সেই বিষয়ে পর্যালোচনা প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাদেশকে দিতে চায় ৩১ শতাংশ পানি। চলতি মাসে কমিশন মমতা ব্যানার্জিকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে দার্জিলিংয়ে মমতা লেপচা উন্নয়ন পর্ষদ তৈরির কথা ঘোষণার পর পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়েছে। তিস্তার বেশ খানিকটা পানি দার্জিলিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, তিস্তা চুক্তি হলে দার্জিলিংয়ে নতুন করে আন্দোলন শুরু হতে পারে। তাই কল্যাণ রুদ্রকে আপাতত চূড়ান্ত প্রতিবেদন স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। ড. কল্যাণ রুদ্র জানিয়েছেন, সমীক্ষার কাজ শেষ। বাংলাদেশ যাতে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজন হলে প্রতিবেদন চেয়ে নেয়া হবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বর্তমানে তিস্তার ২৫ শতাংশ পানি পায়। তবে দাবি ৫০ শতাংশ। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরকালে তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ওই সফর বর্জন করায় চুক্তি করা সম্ভব হয়নি।