ট্রাইব্যুনালের আগামী দিনের রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৫
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। আইন সংশোধন হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের আগামী দিনের রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। গতকাল রবিবার বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপের ত্রয়োদশ পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্যানেল সদস্য হিসেবে মতিয়া চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী হাফিজউদ্দিন আহমেদ, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক তুরিন আফরোজ ও ব্লগার আরিফ জেবতিক। মতিয়া চৌধুরী বলেন, অনেক চাপ অতিক্রম করে সরকার মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে কাদের মোল্লার মামলার রায়ে সরকার সন্তুষ্ট নয়। তাই আপিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সরকারের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গীকার। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিশ্চিত হবে। হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, তরুণদের আন্দোলন যে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে তা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে রাজনৈতিক দলগুলোর আর কোন উপায় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার মামলার রায়ের প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে সরকারের সঙ্গে জামায়াতের একটি সমঝোতা হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে সরকারের কথিত আপোষ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অপর প্যানেল আলোচক ড. তুরিন আফরোজ বলেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই প্রত্যাশিত রায় বের করে আনতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য। তবে কাদের মোল্লার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অদক্ষতা বা ব্যর্থতা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফাঁসি না হয়ে কারাদণ্ডের কারণ কি? এমন এক প্রশ্নে ব্লগার আরিফ জেবতিক বলেন, তারা বিচারের রায়ে সন্তুষ্ট নন। তবে তারা আদালত বা ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে কথা বলছেন না। শুরু থেকে ট্রাইব্যুনালকে যে ধরনের গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতা করা উচিত ছিলো তা করা হয়নি। এমনকি মামলায় সহায়তার জন্য একটি ভালো গবেষণা সেল পর্যন্ত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।