মাথায় বাঁধা জাতীয় পতাকা। গালে আল্পনায় আঁকা ‘ফাঁসি চাই’। পরনের টি-শার্টে রয়েছে বাংলা বর্ণমালা কিংবা জাতীয় মানচিত্র। হাতে ক্ষুদ্রাকৃতির জাতীয় পতাকা। কণ্ঠে স্লোগান-‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই।’
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে জেগে ওঠা রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে গতকাল রবিবার জমায়েত তরুণ-কিশোর-শিশুদের বাহ্যিক অবয়ব ছিল এমনটাই। টানা ষষ্ঠ দিনের আন্দোলনে এসে তারুণ্যদীপ্ত স্লোগান যেন পেয়েছে আরো জোর। সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তরুণদের আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। স্পিকারের কাছে দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্মারকলিপিও পেশ করেছেন তারা। মশাল মিছিল, পতাকা মিছিল, স্লোগান, নাটিকা মঞ্চস্থ, ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন, কবিতা, স্মারকলিপি পেশ, প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ তৈরি, গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, গান, গণসঙ্গীত, বাদ্যসহ নানা আয়োজনে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন তরুণরা। এ আন্দোলন সারাক্ষণ উজ্জীবিত রাখছে স্লোগান। হাজারো মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে-‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই’, ‘ফাঁসি, ফাঁসি, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি’ ‘জয় বাংলা’, তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘আমাদের ধমনিতে শহীদের রক্ত, এই রক্ত কোনোদিন পরাভব মানে না।’ একাত্তরের মন্ত্রে উজ্জীবিত তারুণ্য যেন ভুলে গেছে ক্লান্তি।
রাজধানীর শাহবাগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘গণজাগরণে’ তারুণ্যের প্রতিবাদী কণ্ঠের সাথে সুর মিলিয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। প্রজন্ম চত্বরে তরুণদের সাথে যোগ দিয়েছেন চার বছরের শিশু থেকে আশি বছরের বয়স্ক নাগরিক। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, রিকশা চালক, দিনমজুর, দোকানদার, হকার, সব শ্রেণীর মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে শাহবাগ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবাই নিজেদের উজ্জীবিত করে নিলেন আরো একবার। ‘তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধকে’ স্যালুট জানালেন একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা।
গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও রোদ ছিল বেশ চড়া। দুপুরের রোদ উপেক্ষা করে গণজাগরণ মঞ্চে সমবেত হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। মূল মঞ্চের স্লোগানের সাথে তাল মিলিয়ে স্লোগান দিলেন অনেকে। আবার পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সারাদিনই সমবেত স্লোগান তুললেন কেউ কেউ। সড়কে প্রতিবাদী ব্যঙ্গচিত্র আঁকলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বাদ্য বাজিয়ে ও স্লোগানে মুখর করলো শাহবাগ চত্বর।
স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি
শাহবাগে চলমান আন্দোলনে তরুণরা গত ছয় দিন সম্মিলিতভাবে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছেন। গতকাল বিকালে তারা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিসহ ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদকে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট’র আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার স্বাক্ষরিত ঐ স্মারকলিপিতে কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা, জামায়াতের আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করা, জামায়াতের মালিকানাধীন গণমাধ্যম নিষিদ্ধ, ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা রহিত করা, জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, যেসব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, শক্তি ও প্রতিষ্ঠান যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা, ১৯৭৫’র পর সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন যে সমস্ত যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আলবদরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদের পুনরায় গ্রেফতার এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনরতদের পক্ষে গতকাল বিকালে সংসদে স্পিকারের অফিসে স্মারকলিপি জমা দেন পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ঐ দলের নেতা ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, স্পিকার একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। এজন্য আমরা তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। দাবি বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছি।
এ বিষয়ে স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ বলেন, স্মারকলিপিটি সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে পাঠানো হবে।
রাতে স্মারকলিপির একটি অনুলিপি পাঠ করা হয় গণজাগরণ মঞ্চে।
ক্রিকেট দলের সংহতিতে উজ্জীবিত
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশের ‘তারুণ্যের আইডলে’ পরিণত হয়েছে অনেক দিন আগেই। গতকাল বিসিবি’র সভাপতিসহ ক্রিকেট দলের সদস্যরা প্রজন্ম চত্বরে এসে সংহতি জানান। ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে আন্দোলনরত উপস্থিত জনতার মাঝে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুর দেড়টার দিকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে গণজাগরণ মঞ্চে উপস্থিত হন প্রধান নির্বাচক আকরাম খান, পরিচালক জালাল ইউনুস, সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, পরিচালক মাহাবুবুল আনাম, ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, আজম নাসির, আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি, আফজালুর রহমান সিনহা, ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোহাম্মদ আশরাফুল, আবদুর রাজ্জাক, নাসির হোসেন, ইলিয়াস সানি, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা প্রমুখ।
সমাবেশে স্লোগান তোলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, দেশের জন্য স্লোগান দিতে পেরে গর্বে আমার বুক ভরে গেছে। স্লোগানে এত সুখ আগে কখনো অনুভব করিনি। রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে যে গণআন্দোলন চলছে, তাতে সংহতি জানাতে এসেছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড় এর সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন। তবে বিপিএল চলার কারণে সবাই আসতে পারেনি।
তিনি বলেন, রাজাকার মুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। এ তরুণদের চোখে আমি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পেয়েছি। তাই সংহতি জানিয়েছি।
ক্রিকেটার আশরাফুল ইসলাম বলেন, খেলার কারণে আমরা আন্দোলনে অংশ নিতে পারিনি। তাদের এ আন্দোলনে আমাদের সমর্থন রয়েছে ও থাকবে। এটি অভূতপূর্ব এক আন্দোলন।
দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে দুরন্ত রাজশাহী ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ও আন্দোলনরতদের সাথে সংহতি জানিয়েছেন। এর আগে শনিবার রাতে ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিসও আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়েছিলেন।
পতাকা হাতে নতুন বাংলাদেশ
গতকাল সন্ধ্যায় পতাকা ও মশাল হাতে মিছিল করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এ মিছিলে শরিক হন আন্দোলনে আসা নানা বয়সী মানুষ। মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকলেই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নানা সংগঠন ও ব্যক্তির উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্বলন করেও একই দাবি জানানো হয়।
স্লোগানে ধ্বনিত মূলমন্ত্র
শাহবাগের ‘গণজাগরণের’ শুরু থেকেই প্রতিবাদের প্রধান ভাষায় পরিণত হয়েছে স্লোগান। মূল মঞ্চের বাইরেও এখন খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়ে স্লোগান তুলছেন আন্দোলনরতরা। ক্লান্তিহীনভাবে তরুণরা স্লোগান দিচ্ছেন যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে। জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘ক-তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘ক-তে কামারুজ্জামান, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘গ-তে গোলাম আযম, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘স-তে সাকা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘ম-তে মুজাহিদ, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘ন-তে নিজামী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘স-তে সাঈদী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’ স্লোগানটি।
গতকাল সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত স্লোগান ছিল- ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘আমাদের ধমনিতে শহীদের রক্ত, এই রক্ত কোনোদিন পরাভব মানে না।’
উচ্চারিত হয়েছে, ‘সামপ্রদায়িকতার আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা, পাকিস্তানেই ফিরে যা’, ‘বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াত-শিবিরের ঠাঁই নাই’; ‘আমাদের সংগ্রাম চলছে, চলবে’, ‘আর কোনো দাবি নাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’, ‘জামায়াতে ইসলাম, মেড ইন পাকিস্তান’, ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’।
আজ টোকেন খাদ্য বিতরণ শুরু
আন্দোলনের শুরু থেকেই আন্দোলরত তরুণরা নিজেরা চাঁদা উঠিয়ে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি উদ্যোগে আনা খাদ্যের মাধ্যমে খাবারের সংস্থান করছেন। এতে আজ থেকে যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা। অবস্থান কর্মসূচিতে আসা আন্দোলনরত জনতার জন্য স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করেছে সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন। আয়োজকরা জানান, আন্দোলনে আসা জনতাকে সহায়তার উদ্দেশ্যে এ টোকেন-খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাদুঘরের মূল ফটকের সামনে স্থাপিত টোকেন কাউন্টার থেকে ৫ বা ১০ টাকার বিনিময়ে টোকেন সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী অন্য কাউন্টার থেকে খাদ্য সংগ্রহ করা যাবে। এ জন্য সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। আর ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আসা খাদ্য সরসরি সমাবেশেই বিতরণ করা হবে।
এছাড়া তথ্যকেন্দ্র তৈরি করেছে সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন। চিকিত্সা কেন্দ্র তৈরি করে চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছে ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট।
কিছু সময়ে জন্য অবমুক্ত হলো এক পাশের সড়ক
শাহবাগ মোড়ে চলমান আন্দোলন শুরুর দিন থেকেই ঐ সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত ঐ এলাকা দিয়ে যান চলাচল করে। তবে দুপুরে সমাগম বেড়ে যাওয়ায় পৌনে ১২টার দিকে তা আবারো বন্ধ হয়ে যায়। শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট সড়কগুলেতে স্থায়ী যানজট তৈরি হয়েছে। তবে এ ভোগান্তিকে সাধারণ জনগণ ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ মেনে নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
‘আয় রাজাকার আয়’
ফাঁসির দাবিতে উত্তাল শাহবাগে তৈরি করা হয়েছে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ। গতকাল রবিবার শাহবাগ মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি রূপক ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করেছেন আন্দোলনরতরা। চারুকলা অনুষদের সামনে একটি রূপক ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে তরুণরা স্লোগান দেন ‘আয় রাজাকার আয়, ফাঁসি দেবো, আয়’। জাদুঘরের সামনে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় রাজাকারদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়। শাহবাগ সড়কে অন্য একটি মঞ্চে ফাঁসে ঝুলতে থাকে একটি ডামি।
আগ্রহ বাড়ছে
গণজাগরণে তরুণদের এবং জনতার আগ্রহ বাড়ছে। গতকাল সাপ্তাহিক কর্মদিবসের শুরুর দিনেও হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে শাহবাগে। সংহতি জানায় তরুণদের আন্দোলনের সাথে। শাহবাগে এসে আন্দোলনের সাথে সংহতি জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুপুরে তিনি শাহবাগে আসলে আন্দোলনরতরা তাকে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। সংহতি জানিয়েছেন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, লেখক আনিসুল হক, রোকেয়া প্রাচী, চলচ্চিত্র পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।
সংহতি জানিয়ে আন্দোলনে শরিক হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, এআইইউবি ইউনিভার্সিটি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, তিতুমীর কলেজ, কুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। স্লোগানে, গানে, নানা আয়োজনে তারা মুখরিত রাখেন শাহবাগ চত্বর।
মুক্তিযোদ্ধাদের ‘নতুন যুদ্ধ’
শাহবাগে তরুণদের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন একাত্তরের রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারাও। তারা আন্দোলনরতদের নানাভাবে উত্সাহ দিচ্ছেন ও সহায়তা করছেন। স্লোগান তুলছেন তরুণ কণ্ঠের সাথে। এমনই একজন সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বীর প্রতীক। তিনি গতকাল বিকালে বললেন, এ আন্দোলন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নতুন জন্ম। ২০১৩ সালে ১৯৭১কে দেখছি। দেশ স্বাধীন করলেও চেতনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছি। এরা সেই চেতনা বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, রাজনীতিকরা আমাদের চেতনা বাস্তবায়ন করেনি। তরুণরা পারবে। তারা যেটি করছে, এটিও রাজনীতি। তবে দলীয় রাজনীতিতে তাদের জড়ানো চলবে না। দলীয় যুক্ততা যেন এ আন্দোলনে না থাকে। যতটুকু পারছি উত্সাহ ও সহায়তা জোগাচ্ছি। এটি আমাদের জন্য নতুন করে মুক্তিযুদ্ধ।
