৪৫ দিনে আপিল নিষ্পত্তি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪২
এবার আপিল বিভাগকে ৪৫ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলা নিষ্পত্তি করতে না পারলে গ্রহণযোগ্য কারণ লিপিবদ্ধ করে আরো ১৫ দিন সময় বর্ধিত করতে পারবে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোন আইনে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আপিল বিভাগকে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সংশোধনী প্রস্তাবে মামলার বাদি ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকছে। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের এ সংক্রান্ত সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এ আইন পাস হলে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে কোন দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে সরকার। আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ গতকাল রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রী আরও জানান, সংশোধনীটি মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন পেলে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধিত প্রস্তাবটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণীত হয় ১৯৭৩ সালে। এরপর ২০০৯ ও ২০১২ সালে দুইদফা আইনের সংশোধন করে সরকার। কিন্তু ওই আইনে ট্রাইব্যুনালের কোন দণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের আপিল করার কোন সুযোগ ছিলো না। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবনসহ ৪৫ বছরের কারাদণ্ডের ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে ওই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের দাবি উঠে। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকেও আইন সংশোধনের দাবি জানানো হয়। প্রসঙ্গত দেশের প্রচলিত আইনে নিম্ন আদালতের যে কোন দণ্ডাদেশ কমানো বা বাড়ানোর বিষয়ে উচ্চতর আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে দণ্ড বাড়াতে সরকারের আপিলের কোন সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধিত) আইন-২০০৯ এর ২১ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, যে কোন অপরাধে দোষী একজন ব্যক্তি এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ডিত একজন ব্যক্তি যে কোন সাজা ও দণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের অধিকার রাখে। খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সরকারের আপিলের অধিকার রয়েছে। এদিকে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও ট্রাইব্যুনাল বা আপিল আদালতের কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট করা ছিলো না। ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেয়া না হলেও আপিলের ক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ইত্তেফাককে জানান, নতুন সংশোধনী অনুযায়ী আগের মতোই ৩০ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ, আসামিপক্ষ ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন। আপিল করার পর পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণে যদি ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি না করা যায়, তা হলে এ ক্ষেত্রে আরও ১৫ দিন সময় পাবে আপিল বিভাগ। অর্থাত্ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের মতামত বা প্রত্যাশা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও আইন সংশোধন করা হয়। এ আইনটিও জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংশোধন করা হচ্ছে। এদিকে গতকাল সকালে সচিবালয়ে এ নিয়ে আইনমন্ত্রী একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ভূমি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম, আইন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম শাহ আলম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের প্রধান সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এম কে রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আইন সংশোধনে আইন কমিশনের একটি প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।