বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক শাসকদের তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল রবিবার দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।
নূরে আলম সিদ্দিকী বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি আমি বিদেশে চিকিত্সাধীন থাকার সময়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আমার বিরুদ্ধে যে ভিত্তিহীন, সর্বৈব মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে বাকশালের বিরোধিতা করেছিলাম। সামরিক শাসকদের সহায়তা করলে কেবল সেই সুবাদে উচ্চতর রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী লাভ করা আমার জন্য খুবই সহজ ব্যাপার ছিল; কিন্তু বঙ্গবন্ধুর গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা ও গভীর বিশ্বাসের কারণে সামরিক শাসকদের সহায়তা করার কোনো হীন মানসিকতা আমাকে কখনই গ্রাস করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের অভিযোগকারীর জানা উচিত, জিয়াউর রহমানের আমলেই আমাকে ১৯ মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানও এর সাক্ষি। বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহ সিঁড়িতে পড়ে থাকাকালীন আমি কোনো আন্দোলনের ভূমিকা নেইনি, এই অভিযোগও উত্থাপন করেছেন তিনি; কিন্তু সেদিন আমার হাতে তো কোনো সংগঠন ছিল না, সুতরাং কী করতে পারতাম আমি? আমি এই মর্মে পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই যে, বাকশাল কায়েম করে আওয়ামী লীগকে যখন কম্যুনিস্ট প্রভাবিত করা হয়েছিল তখন যারা নেতৃত্বে ছিলেন তারা তখন কি করেছেন? তারাও কেন ঘুমিয়ে পড়লেন সেদিন? বলা হয়েছে, আমি ৩২ নম্বরে গড়াগড়ি করে ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছি। এটি শুধু হাস্যস্পদই নয়, ইতিহাসের প্রতি চরম অবমাননাও বটে। কারণ তখন ছাত্রলীগের সভাপতি হতে হলে প্রজ্ঞা, বুদ্ধিদীপ্ত চেতনা, আত্মত্যাগ এবং বাঙালী জাতীয়তাবাদী চেতনায় আস্থা, ভালো বাগ্মিতা ইত্যাদির প্রয়োজন হতো। বঙ্গবন্ধু আমাদের আদর্শের প্রতীক ছিলেন; কিন্তু সাংবিধানিক প্রধান ছিলেন না। পকেট থেকে কখনই তিনি ছাত্রলীগের কমিটি বের করে দেননি। আওয়ামী লীগ ভাগ করার অভিযোগের উত্তরে আমার স্পষ্ট উচ্চারণ- আওয়ামী লীগকে তার স্বকীয় ধারায় প্রতিষ্ঠিত করতেই সেদিন এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। আমরা বঙ্গবন্ধুকে কখনই পরিত্যাগ করিনি, তার আদর্শকেই প্রতিষ্ঠিত করার সর্বোত প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আমি নিঃসংকোচে বলতে চাই- আমি গণতন্ত্রের সপক্ষে।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে মরহুম মিজান চৌধুরী এইচএম এরশাদের সঙ্গে যোগদান করলেও আমি রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যাই। আরেকটি অযৌক্তিক অভিযোগ- আমি নাকি নয়-ছয় করে কোটিপতি হয়েছি। এখানে নয়-ছয় করে স্টক এক্সচেঞ্জের ২৬ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা যায়। হল-মার্ক, ডেসটিনি, যুবক, পদ্মা সেতু সংক্রান্ত নানান কীর্তি-কাহিনীর অংশীদার হওয়া যায়; কিন্তু পনেরো হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে একটি বৃহত্ শিল্প পরিবার গড়ে তোলা যায় না। আমার বিশ্বাস, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত যারা তারাই কেবল আত্মরক্ষার খাতিরে এ ধরনের ভ্রান্ত, যুক্তিহীন ও অমূলক অভিযোগ উত্থাপন করতে পারে।
