স্পোর্টস রিপোর্টার
অস্ট্রেলিয়ার মতো চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক তিনি। কিন্তু সেই ফিঞ্চের ব্যাটেই ছিল না রান। টানা ৯ ইনিংসে ফিফটি ছিল না তার। এমন অবস্থায় অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক নিজেই পড়ে গিয়েছিলেন সংশয়ে। তার মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপটাই হয়তো মিস করে ফেলবেন তিনি।
গত ঘরের মাটির মৌসুমটা খুব খারাপ কেটেছে ফিঞ্চের। টেস্টে খারাপ করার ফলে দল থেকেই বাদ পড়েছিলেন। এর সঙ্গে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে এই ফরম্যাটেও রান করতে পারছিলেন না। এদিকে ঘনিয়ে আসছিল বিশ্বকাপের সময়। আবার দলে ফেরার পথে ছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ। মনে হচ্ছিল ওয়ার্নারকে জায়গা দিতে ফিঞ্চকেই হয়তো সরে দাঁড়াতে হবে।
ভারতের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে ৯৩ রানের ইনিংস খেলে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দেন। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটাকে বেছে নেন ফর্মের প্রদর্শনী করার জন্য। প্রথম দুই ম্যাচেই সেঞ্চুরিসহ ৫ ম্যাচে ৪৫১ রান করে বুঝিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত তিনি।
এখন নির্ভার হয়েই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিতে যাচ্ছেন অধিনায়ক। তার আগে ‘এসইএন’ রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, তিনি আসলেই নিজেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বিশেষ করে একজন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক হিসেবে পারফরম করতে না পারাটা যন্ত্রণার ছিল, ‘আমি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। দলের অধিনায়ক আমি। অথচ কোনো রান করতে পারছিলাম না। কিন্তু আমি সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাই। আমি যখন রিকি পন্টিং, স্টিভ ওয়াহ, মার্ক টেলর, অ্যালান বোর্ডারের কথা চিন্তা করতাম, দেখতাম, ওনারা সবাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু আমি সেই জায়গায় কেবলই হতাশ হচ্ছিলাম। আমি নিজেকে তৈরি করছিলাম, সাফল্য পাওয়ার জন্য যা দরকার, সব করছিলাম। কিন্তু রানটা আসছিল না।’
তবে এই সময়েও দল থেকে যে সমর্থন পেয়েছেন, সেটা অসাধারণ বলেই বলছিলেন ফিঞ্চ। তারপরও তার মন মানছিল না, ‘আমি দল থেকে যে সমর্থন পাচ্ছিলাম, সেটা অসাধারণ। কিন্তু মনের ভেতরে সবসময় কাজ করতো, বিশ্বকাপ আর খুব দূরে নেই। আমি বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়তে পারি। এর ফলে নিজের ওপর অবাস্তব একটা চাপ তৈরি হচ্ছিল। একবার পারফরম না করতে পারলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।’
ফিঞ্চ বললেন, ভারতের বিপক্ষে ওই নব্বইয়ের ঘরের ইনিংসটাই আসলে তাকে আবার ছন্দে নিয়ে এসেছে। এর আগে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও হায়দারাবাদে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। সেই কথা মনে করে ফিঞ্চ বলছিলেন, ‘ইঞ্চি ব্যবধানে ওটা আমার ভবিষ্যত্ ঠিক করে দিয়েছে। হায়দারাবাদে বুমরাহর বলে আমি আবার শূন্য রানে আউট হয়েছিলাম। এরপর ভাবছিল, কী ভুল করছি। আমার ভাগ্য ভালো যে, এরপর নব্বই ঊর্ধ্ব একটা ইনিংস খেললাম। উসমানের সঙ্গে ভালো একটা জুটি হলো।’
