গল্প নয় সত্যি

ভালো ব্যবহারের জন্য!

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:০৩
কমবয়সী শিশুদের নিয়ে যাদের এখানে ওখানে যেতে হয় নানা সময়ে তাদের পড়তে হয় নানা ধরনের ঝক্কিতেও। বিশেষ করে যেসব শিশু একটু বেশিই চঞ্চল তাদের নিয়ে কোথাও খেতে বা বেড়াতে গেলে সব সময়ই বাড়তি দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় বাবা-মা’কে। এমনকি অনেক সময় শিশুদের এই চঞ্চলতা বিরক্ত করে তোলে আশপাশে থাকা অন্যদেরও। কিন্তু সারাজীবন ধরে যেখানে চঞ্চল শিশুর জন্য তাদের বাবা-মা’কে অন্যদের অভিযোগই শুনতে হয়েছে সেখানে শান্ত আর ভদ্র শিশুদের জন্য কেউ কি কখনও বাবা-মা’কে কোনো উপহার দিয়েছেন? আর কেউ না দিলেও আমেরিকার ওয়াশিংটনে অবস্থিত সগনো ডি ভিনো রেস্তোরাঁর বিষয়টা কিন্তু একদমই আলাদা। স্রেফ ধন্যবাদ জানানোর বদলে শিশুদের ভালো আচরণের জন্য একটি পরিবারের খাবার বিলে রীতিমতো মূল্য ছাড় দেয় এই রেস্তোরাঁটি। আর এমনই এক মূল্যছাড়ের রশিদ সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তা ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আর দশদিনের মতো ঘটনার দিনও অন্য অনেক ক্রেতাদের পাশাপাশি এই রেস্তোরাঁয় খেতে এসেছিলেন মা লরা কিং ও তার তিন সন্তান। এদের বয়স ছিল যথাক্রমে ৮ বছর, ৩ বছর ও দুই বছর। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের শিশুরা রেস্তোরাঁয় খেতে এসে দারুণ হৈ-হল্লা বা কান্নাকাটি করে। আবার কেউ কেউ হয়তো খাবার সময় পে¬টের সীমানা ছাড়িয়ে খাবার ও পানীয়র অবশিষ্টাংশ টেবিলে বা অন্যান্য স্থানেও ফেলে। তবে লরা কিং ও তার বাচ্চারা সেদিন এতোটাই গুছিয়ে খাবার খাচ্ছিলেন যে বিষয়টি মুগ্ধ করে রেস্তোরাঁর মালিক রব স্কটকে। আর তাই এই পরিবারের খাবার বিল করার সময় তিনি তাদের মিষ্টান্ন খাবার টাকাটি বাদ দিতে অতিরিক্ত ৪ ডলারের ছাড় দেন। তবে মজার বিষয় হলো মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী এই ছাড় দেওয়ার সময় রেস্তোরাঁর এক কর্মী পরিবারটির খাবার বিলেও সেটি উল্লে¬খ করে দেয় যেখানে লেখা ছিল শিশুদের ভালো ব্যবহারের জন্য বিশেষ ছাড়-৪ ডলার। রেস্তোরাঁয় থাকাকালীন সময়ে বিষয়টি খেয়াল না করলেও বাসায় এসে বিলের দিকে চোখ পড়ে মা লরা কিংয়ের। মজার এই ছাড়ের কথা তিনি সাথে সাথেই তার এক বন্ধুকে বলেন। আর সেই বন্ধু এই বিলের কপি একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলে দারুণভাবে সাড়া মেলে অনলাইন কমিউনিটিতে। এদিকে অভিনব এই ছাড়ের কারণ সম্পর্কে রেস্তোরাঁ মালিক রব স্কট পরে একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কখনও কখনও কিছু কিছু শিশু খেতে এসে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে তা সে সময় রেস্তোরাঁয় খেতে আসা অন্যদেরও বিরক্ত করে। অথচ একসময় আমাদের বাবা-মায়েরা রেস্তোরাঁয় কীভাবে খেতে হবে সেই বিষয়গুলোও আমাদের শেখাতেন। এখন শিশুদের চঞ্চলতার জন্য আমরা হয়তো তাদের শাস্তি দিতে পারি না, কিন্তু যেসব বাবা-মা তাদের সন্তানদের ভালো আচরণ শেখান তাদের অন্তত উত্সাহিত করতে পারি।’