প্রযুক্তি পণ্যের দাম কমাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগ

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:০৯
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি পণ্য যেমন উন্নত হয়ে উঠছে, সেইসাথে প্রযুক্তি পণ্যের দাম নিয়েও বিশ্বব্যাপী মানুষের মাঝে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া। হাই-এন্ড সব প্রযুক্তি পণ্যগুলো মূল্যের দিক থেকে পেরিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের হাতের নাগাল। যে কারণে প্রযুক্তি পণ্যের প্রভূত উন্নয়ন ঘটলেও তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই। প্রযুক্তি পণ্যের মূল্যের ক্ষেত্রে অবশ্য এক দেশের সাথে অন্যদেশের চিত্রের পার্থক্যও রয়েছে কিছু ক্ষেত্রে। সেই ধরনের চিত্রটি অস্ট্রেলিয়াতেও রয়েছে বলেই মনে করছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। আর সে কারণেই তারা টেক জায়ান্টদের নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে প্রযুক্তি পণ্যের মূল্য নির্ধারণে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে অস্ট্রেলিয়ার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যার কাজ ছিল অস্ট্রেলিয়াতে প্রযুক্তি পণ্যের মূল্য অন্যান্য দেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা নিয়ে তদন্ত করা। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ভোক্তা সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু কিছু প্রযুক্তি পণ্যের উচ্চমূল্যের অভিযোগ জানানোর প্রেক্ষিতে এই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির পক্ষ থেকে এবারে টেক জায়ান্ট অ্যাপল, মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবিকে ডাকা হয়েছে মূল্যসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য। এর আগেও এই অভিযোগ উত্থাপিত হলে এসব প্রতিষ্ঠান সেই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছে এবং কোনো ধরনের সংসদীয় কমিটির সাথে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্য এড হাসিককে উদ্বৃতি করে একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াতে কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি পণ্যের মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। তদন্ত কমিটির এই সদস্য জানান, ‘এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আমাদের সাথে সহযোগিতা করা উচিত এবং তাদের পণ্যের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আরও বেশি উন্মুক্ত এবং স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগত ব্যবহার থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের এখন বহুল ব্যবহার রয়েছে। আর তাই অর্থনৈতিকভাবে এর প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। আর তাই এসব পণ্যের মূল্যে যথাসম্ভব সর্বত্র সমতাবিধান করা দরকার।’ আগামী ২২ মার্চ উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। অ্যাডোবি’র পক্ষ থেকে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। অ্যাপল এবং মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য জানানো হয়নি।