প্রাকৃতিক ‘দুর্যোগে’ ফাইনাল বাতিল

বাংলাদেশ-লাওস যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২১:২০

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও শেষ পর্যন্ত বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলে লাওস এবং বাংলাদেশের মধ্যকার ফাইনালটি মাঠে গড়ায়নি। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় ফাইনাল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ফণীর ‘দুর্যোগের কারণে’ দুই দলকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

বাফুফের সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ, বাফুফের সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ, টুর্নামেন্টের স্বত্ব ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ফাহাদ করিমসহ অন্য কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে এসে লিখিত বক্তব্যে এ সিদ্ধান্ত জানান।

সালাম মুর্শেদী সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘টুর্নামেন্ট কমিটির সিদ্ধান্ত হয়েছে ফণীর দুর্যোগের কারণে টুর্নামেন্টের ফাইনাল বাতিল করা হলো। লাওস এবং বাংলাদেশকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হলো।’ এই ঘোষণার পর পরই সংবাদ মাধ্যমের তোপের মুখে পড়েন বাফুফের এই কর্মকর্তা। প্রশ্নবানে জর্জরিত হলেও তিনি মোটেও বিব্রত হননি।

ফাইনাল বাতিলের ঘোষণার সময় লাওসের প্রতিনিধি ইত্তেফাকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এটা খেলার উপযোগী আবহাওয়া। এ ধরনের আবহাওয়ায় খেলা যায়। তবে যে ধরনের পরিস্থিতিতে ফাইনাল বাতিল করা হয়েছে সেই সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান জানাই।’

বঙ্গমাতা ফুটবলের স্বত্ব ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কে- স্পোর্টস এর প্রধান নির্বাহী ফাহাদ করিম বলেন, ‘দেশের মানুষ দুর্যোগের মুখে পড়েছে। নানা স্থানে আঘাতও হয়েছে। সবখানে প্রার্থনা করছে মানুষ। এই অবস্থায় আমরা ফুটবল খেলা নিয়ে উত্সবে মেতে থাকতে পারি না। আমরা মনে করি যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা সঠিক। আমাদের অর্থিক ক্ষতি হলেও দেশের স্বার্থে এবং মানুষের কথা বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

কথা ছিল চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২৫ হাজার এবং রানার্সআপ পাবে ১৫ হাজার ডলার। এখন বাংলাদেশ ও লাওসকে পুরো অর্থ সমান ভাগ করে দেওয়া হবে। সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী বলছিলেন ট্রফি দেওয়া হবে দুটি। পরে বললেন টস করে ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে কারা চ্যাম্পিয়ন ট্রফি পাবে।

বাফুফের কর্মকর্তারা যখন ফাইনাল বাতিলের ঘোষণা দিচ্ছিলেন তখন বাইরে গ্যালারিতে উত্তেজনা। বৃষ্টিতে ভিজে একাকার, কাকভেজা দর্শকরা শোরগোল করছিল। ফ্লাড লাইট জ্বলেনি। মাঠের ঘাস ভেজা। প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের পুরস্কার বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়।

গতকাল কয়েক হাজার ফুটবল দর্শক গ্যালারিতে বসে ফাইনাল দেখতে বৃষ্টিতে ভিজেছেন। লাওস এবং বাংলাদেশের মেয়েরা নির্ধারিত সময়ে মাঠে নেমে ওয়ার্মআপ করে ড্রেসিং রুমে যায়। তখন কোরিয়া এবং চীনা রেফারি ও সহকারী রেফারিরা লাইনআপে। কিন্তু খেলোয়াড়রা ড্রেসিং রুম হতে আর বের হননি।

মাঠের যে পরিস্থিতি ছিল তাতে খেলা হওয়া সম্ভব ছিল। এর চেয়েও বেশি বৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে আগে। বাতিলই যদি করতে হয় তাহলে আগেই কেন করা হলো না সেই প্রশ্নে এড়িয়ে গেছেন সালাম মুর্শেদী। তিনি অবশ্য জানিয়েছেন টিকিট ক্রেতাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।