নুয়ানকো কানু, রাশিদ ইয়েকেনিদের প্রজন্মটা চলে যাওয়ার পর নাইজেরিয়ার সুদিনও যেন হারিয়ে গিয়েছিল। ছোট-বড় কোনো শিরোপাই ঘরে তুলতে পারছিল না তারা। অবশেষে রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার সকার সিটি স্টেডিয়ামে ‘আউট সাইডার’ বুরকিনা ফাসোকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের তৃতীয় আফ্রিকান ন্যাশন্স কাপ হাতে তুললো নাইজেরিয়া। ফাইনালে সানডে এমবার একমাত্র গোলে ১৯ বছর পর নাইজেরিয়ার সোনালী দিন আবার ফিরিয়ে আনল স্টিফেন কেশিওর দল।
এই জয় নাইজেরিয়াকে যেমন এক অসামান্য আনন্দের উপলক্ষ এনে দিল, তেমনি এই শিরোপা এক অনন্য উচ্চতায় তুলে নিয়ে গেল কোচ স্টিফেন কেশিওকে। মিসরের মাহমুদ এল গোহারির পরে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে আফ্রিকান নেশন্স কাপে স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্ব দেখালের কেশি।
চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার ঈগলসরা দেড় মিলিয়ন ডলারের পুরস্কারের পাশাপাশি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কনফেডরেশন কাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করেছে। যেখানে তারা বিশ্ব ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, তাহিতি এবং উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।
১৯৮০ সালে প্রথমবারের মতো আফ্রিকার সেরা হয়েছিল নাইজেরিয়া। সেবার লাগোসের ফাইনালে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল তারা। তুনিসে ১৪ বছর পরে ১৯৯৪ সালে জাম্বিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে দ্বিতীয় শিরোপা পায় নাইজেরিয়া।
গতকালের ম্যাচের আগে নাইজেরিয়া শিবিরে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার এমানুয়েল এনিনাইকের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছিল। এই ইনজুরির কারণেই সেমিফাইনালে মালির বিপক্ষে তার পরিবর্তে স্ট্রাইকার ইকেচুকু উচে মাঠে নেমেছিলেন। এমানুয়েল এবারের আসরে ৪টি গোল করেছেন।
অন্যদিকে ঘানার বিপক্ষে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুরকিনা ফাসো যে দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল সেই জয়ী দলের উপরই আস্থা রেখেছিলেন পুট। যদিও সেমিফাইনালে তারকা মিডফিল্ডার জোনাথন পিট্রোয়িপার লাল কার্ডের কারণে তার খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রেফারি তার ভুল স্বীকার করলে পিট্রোয়িপা ফাইনালে খেলার সুযোগ পান।
৫৬ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বুরকিনা ফাসো নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে আপার ভোল্টাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে প্রথম তারা নাইজেরিয়ার সাথে খেলার সুযোগ পায়। এরপর এবারের আসরে গত মাসে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই তারা নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হয়ে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
এবার শুরুতেই হার মেনে নিতে হয়েছে বুরকিনাকে। ৪০ মিনিটে সানডের গোলে সুপার ঈগলসরা প্রথমার্ধেই ১-০ গোলের লিড নিয়ে নেয়। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই বলের নিয়ন্ত্রণও ছিল নাইজেরিয়ার কাছে। সানডে এমবার বাম পায়ের জোরালো শট বুরকিনার গোলরক্ষক ডাওডা ডিয়াকিটেকেকে ফাঁকি দিয়ে যেভাবে গোলপোস্টের কর্নার দিয়ে জালে জড়িয়েছিল তাতে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। এটা ছিল এবারের টুর্নামেন্টে এমবার দ্বিতীয় গোল। কোয়ার্টার ফাইনালে ফেভারিট আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ী ম্যাচেও জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ২৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। এর আগে ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যেই নাইজেরিয়া এগিয়ে যাবার সুযোগ পেয়েছিল। অনেকটা ফাঁকায় দাঁড়ানো ব্রাউন ইদেয়ের শট গোলবারের উপর দিয়ে চলে না গেলে নাইজেরিয়া হয়ত তখনই এগিয়ে যেতে পারতো। নাইজেরিয়ার মিডফিল্ড এবং ডিফেন্সের দুর্দান্ত বোঝাপড়াই মূলত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিতে সহযোগিতা করেছিল। বুরকিনাও অবশ্য নিজেদের ভুলে কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে।
রোল অব অনার
১৯৫৭ : মিসর
১৯৫৯ : মিসর
১৯৬২ : ইথিওপিয়া
১৯৬৩ : ঘানা
১৯৬৫ : ঘানা
১৯৬৮ : জায়িরে
১৯৭০ : সুদান
১৯৭২ : কঙ্গো ব্রাজাভিলে
১৯৭৪ : জায়িরে
১৯৭৬ : মরক্কো
১৯৭৮ : ঘানা
১৯৮০ : নাইজেরিয়া
১৯৮২ : ঘানা
১৯৮৪ : ক্যামেরুন
১৯৮৬ : মিসর
১৯৮৮ : ক্যামেরুন
১৯৯০ : আলজেরিয়া
১৯৯২ : আইভরি কোস্ট
১৯৯৪ : নাইজেরিয়া
১৯৯৬ : দক্ষিণ আফ্রিকা
১৯৯৮ : মিসর
২০০০ : ক্যামেরুন
২০০২ : ক্যামেরুন
২০০৪ : তিউনিশিয়া
২০০৬ : মিসর
২০০৮ : মিসর
২০১০ : মিসর
২০১২ : জাম্বিয়া
২০১৩ : নাইজেরিয়া
শিরোপার খতিয়ান :
সর্বোচ্চ ৭ বার : মিসর
৪ বার : ক্যামেরুন, ঘানা
৩ বার : নাইজেরিয়া
২ বার : জায়িরে
১ বার : আলজেরিয়া, কঙ্গো ব্রাজাভিলে, ইথিওপিয়া, আইভরি কোস্ট, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুদান, তিউনিশিয়া, জাম্বিয়া
